ঢাকা:
জামায়াতে ইসলামী দেশের প্রধান শহরগুলোর স্কুল-কলেজে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং একে ‘দূরদৃষ্টিহীন ও উল্টো ফলদায়ক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।দলটি সতর্ক করে বলেছে, এই নীতির ফলে শিক্ষার্থীদের এবং দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, ৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় বৈঠকে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত “জাতিকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে দুর্বল করে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ”। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা অযৌক্তিক।
পরোয়ার অনলাইনভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার নানা ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল আসক্তি, নৈতিক অবক্ষয়, শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে বিঘ্ন এবং উচ্চ ইন্টারনেট খরচের কারণে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বঞ্চনা। তিনি ২০২২ সালের ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্টের উল্লেখ করে বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা বাংলা ও গণিতে দুর্বলতা দেখিয়েছে এবং ময়মনসিংহের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা ধনী এলাকার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। ইউনিসেফসহ বিভিন্ন জরিপেও অনলাইন ক্লাস চলাকালীন সময়ে ড্রপআউট বৃদ্ধি ও শিশুশ্রম বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই নতুন পাঠ্যক্রম চালুর চেষ্টা করা হয়েছে, যা কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার ব্যাঘাতের ধারাবাহিকতা। “যে সময়ে জরুরি শিক্ষাসংস্কার প্রয়োজন, সেই সময় আবার অনলাইন ক্লাসে ফিরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের কোনো উপকারে আসবে না,” বলেন পরোয়ার।
জামায়াত নেতা সরকারকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং নিয়মিত সরাসরি ক্লাস চালু রাখার দাবি জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই নীতি চালু থাকলে এর পরিণতির সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারের ওপরই বর্তাবে।