ইরান ঃ
ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার গণভোটের বার্ষিকী ঘিরে দেশজুড়ে সরকারি সমর্থকদের ব্যাপক সমাবেশ ও কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তবে এ বছরের উদযাপন এসেছে এক ভিন্ন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার মধ্যেই সরকারপন্থীরা রাস্তায় নেমে ‘বিজয়ের প্রত্যাশা’ ব্যক্ত করেছে, আর রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাত থেকে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ইসলামিক রিপাবলিক ডে উপলক্ষে শুরু হয় সমাবেশ, মিছিল ও নানা কর্মসূচি। ১৯৭৯ সালের গণভোটে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোটে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যা দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত। প্রায় অর্ধশতাব্দী পর সেই দিনটি এবার পালিত হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে।
এই উদযাপনের মধ্যেই বুধবার ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে সাবেক মার্কিন দূতাবাসের স্থানে বিমান হামলা চালায় বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলটি বর্তমানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে সেখানে ধ্বংসস্তূপ, ধোঁয়া ও আগুনের চিত্র দেখা যায়। ইসলামিক রিপাবলিক ডে’র প্রতীকী তাৎপর্যের সঙ্গে মিল রেখে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার বিকেলে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে ১৫০ মিটার উচ্চতা ও প্রায় ৩০০ কেজি ওজনের একটি বিশাল জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পতাকা হিসেবে দাবি করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের প্রতীক।
সরকারি নেতারা জানিয়েছেন, এই সংকটময় সময়ে জনগণকে রাস্তায় উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রকে সমর্থন জানাতে হবে এবং যেকোনো ধরনের ভেতরের অস্থিরতা বা সরকারবিরোধী তৎপরতা মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে হবে। সামরিক বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রাখা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে বার্তা আদানপ্রদান করলেও কোনো ধরনের আলোচনায় সম্মতি দেননি। তিনি জানান, জনগণের সঙ্গে রাস্তায় উপস্থিত হয়ে তিনি ‘মানসিক শক্তি ও প্রেরণা’ অর্জন করতে চান।
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। কেউ যদি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভিডিও ধারণ করে বা সরকারবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হতে পারে, যার শাস্তি হতে পারে সম্পদ জব্দ কিংবা মৃত্যুদণ্ড।
এমন পরিস্থিতিতে অনেক সাধারণ মানুষ নিজেদের উদ্যোগে সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফোন বা বার্তার মাধ্যমে আগাম সতর্কতা দেওয়া হচ্ছে, যাতে হামলার আগে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া যায়।
যুদ্ধ, দমননীতি ও তথ্যবিচ্ছিন্নতার এই ত্রিমুখী সংকটের মধ্যেই ইরান সরকার ‘চূড়ান্ত বিজয়’ প্রত্যাশা করছে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।