অভাবী ঘরের অন্ধকার ঘর থেকে উঠে এসে বসিরহাটের 'গতিদানব' জিন্না KKR শিবিরে এসে বিশ্বসেরা ব্যাটারদের ভয় ধরাচ্ছেন

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 2 h ago
অভাবী ঘরের অন্ধকার ঘর থেকে উঠে এসে বসিরহাটের 'গতিদানব' জিন্না KKR শিবিরে এসে বিশ্বসেরা ব্যাটারদের ভয় ধরাচ্ছেন
অভাবী ঘরের অন্ধকার ঘর থেকে উঠে এসে বসিরহাটের 'গতিদানব' জিন্না KKR শিবিরে এসে বিশ্বসেরা ব্যাটারদের ভয় ধরাচ্ছেন
 
তরুণ নন্দী / উত্তর ২৪ পরগনা:

অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা যুবক জিন্নার কাছে ক্রিকেটের সরঞ্জাম মানে ছিল বিলাসিতা। তবুও সে স্বপ্ন দেখত ক্রিকেটার হওয়ার। উত্তর ২৪ পরগনার (N 24 PARGANAS) বসিরহাটের গ্রামের রাস্তায় ডাবের মুচি আর মাটির ঢিলা ছুঁড়েই শুরু হয়েছিল বোলিং প্র্যাকটিস। আর সেই বসিরহাটের জিন্না মন্ডল আজ বাংলার গর্ব। টানা ৫ বার আইপিএল-এ (IPL) নেট বোলার হিসেবে সুযোগ। ডাক পেয়েছেন ২০২৬-এর আইপিএলে কেকেআর (KKR) শিবিরে।
 
গ্রামের ছেলেটির প্রতিভা দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন তাবড় তাবড় বিদেশী ব্যাটসম্যানেরা। ২০২৩ বিশ্বকাপে বল করে বাবর আজম, জ্যাক ক্যালিস ও ডেভিড মিলারদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন। দিনমজুর পরিবারের অভাবকে জয় করে বসিরহাটের ছেলে জিন্না স্বপ্ন দেখেন একদিন ভারতের নীল জার্সি গায়ে মাঠে সে নামবেই।
দিনমজুর পরিবারের সন্তান জিন্নার ছোট থেকে বড় হওয়াটা হয়েছে চরম অর্থকষ্টের মধ্যে থেকে। কিন্তু লক্ষ্য স্থির ছিল বলেই হয়ত দারিদ্র্য তাঁর স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারেনি। স্থানীয় স্তরে টেনিস বলে তাঁর বিধ্বংসী বোলিং নজর কেড়েছিল এক ক্রীড়াপ্রেমীর। আর এখানেই তার কপাল খুলে যায়। এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর পথচলা।
 
কলকাতার সম্বরণ ব্যানার্জির অ্যাকাডেমিতে নিখরচায় প্রশিক্ষণ পেয়েছেন তিনি। পরবর্তীকালে সিএবি-র (CAB) দ্বিতীয় ডিভিশনে রহড়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলার পর থেকেই জিন্নার উত্থান যেন গল্পের মতো। প্রতিভার জোরে ২০১৮ সালে প্রথম আইপিএল নেট বোলার হিসেবে সুযোগ পেয়ে যান। নেটে বলের পর বল করার পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি জিন্নাকে।
 
২০২৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপেও তিনি যুক্ত ছিলেন নেট বোলার হিসেবে। তার বলের গতি, সুইং আর ডেলিভারি দেখে পাক অধিনায়ক বাবর আজমের থেকে উপহার পেয়েছেন জার্সি। প্রশংসা কুড়িয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেট দুনিয়ার তাবড় ব্যাটার জেপি ডুমিনি, জ্যাক ক্যালিস ও ডেভিড মিলারদের মতো কিংবদন্তিদের কাছ থেকে।
 
জিন্না একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে
 
২০২৫-এর ভারত-ইংল্যান্ড (IND-ENG) সিরিজের পর এবার ২০২৬ আইপিএলে কেকেআর-এর নেট বোলার হিসেবে ডাক পেয়েছেন বাংলার এই বোলার। নেটে ব্যাট করার সময় জিন্নার বোলিংয়ের ধার দেখে মুগ্ধ হয়েছেন কেকেআর-এর তারকা ব্যাটাররাও।
 
দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে একেবারে আইপিএলের ঝাঁ চকচকে গ্যালারির গ্ল্যামারে আটকে থাকেননি জিন্না। বলা ভালো, তিনি কখনও শুধু নিজের কথা ভাবেননি। নিজের গ্রাম বেগমপুরে তিনি খুলেছেন ‘গ্রিনফিল্ড ক্রিকেট একাডেমি’। যে মাঠে একসময় নিজে ডাবের মুচি ছুঁড়ে খেলতেন, আজ সেখানেই শতাধিকের মত খুদে ক্রিকেটারকে শেখাচ্ছেন তিনি।
 
জানা গেছে, ইতিমধ্যেই তাঁর এই ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ৪২ জন ছাত্র কলকাতার বিভিন্ন ক্লাব ও রেলওয়ের অনূর্ধ্ব-১৩, ১৫ ও ১৮ দলে সুযোগ পেয়েছেন। আসলে জিন্না লক্ষ্য স্থির করছেন, নিজে তো বটেই সঙ্গে বসিরহাটের মাটি থেকে একঝাঁক প্রতিভাকে জাতীয় স্তরে পৌঁছে দিতে দেওয়ার।
 
জিন্না একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে
 
কথায় বলে প্রতিভার কোন বিনাশ হয় না। হয়ত এই কথাটাই ফলে গেছে জিন্নার জীবনে। সৌরভ সরকার, রণজিৎ রায় এবং প্রাক্তন বিধায়ক এটিএম আবদুল্লাহ রনিদের মতো শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় জিন্না আজ অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছেন।
 
তবে তাঁর আসল স্বপ্নটা কিন্তু আরও বড়। তিনি স্বপ্ন দেখেন, ভারতীয় জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দিয়ে দেশের জন্য খেলতে নামা। বসিরহাটের এই ‘গতিদানব’ বার্তা দিলেন, ইচ্ছা থাকলে আর সঠিক পরিশ্রম করলে ডাবের মুচি বা মাটির ঢেলা ছোঁড়া হাতও একদিন বিশ্বসেরা ব্যাটারদের স্টাম্প উড়িয়ে দিতে পারে। বসিরহাট তো বটেই গোটা বাংলা আজ চাইছে আগামীর নীল জার্সি পরার স্বপ্নপূরণ করুক জিন্না।