অবসরপ্রাপ্ত মুসলিম শিক্ষকের হাতে গীতা উপহার, বাসন্তী পূজায় সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা প: নোয়াবাদীতে

Story by  Nurul Haque | Posted by  Aparna Das • 3 d ago
অবসরপ্রাপ্ত মুসলিম শিক্ষকের হাতে গীতা উপহার, বাসন্তী পূজায় সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা প: নোয়াবাদীতে
অবসরপ্রাপ্ত মুসলিম শিক্ষকের হাতে গীতা উপহার, বাসন্তী পূজায় সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা প: নোয়াবাদীতে
 
নূরুল হক / আগরতলা

বাসন্তী পূজাকে কেন্দ্র করে সর্বধর্ম সমন্বয়ের অপরূপ চিত্র ফুটে উঠেছে রাজধানী আগরতলা সংলগ্ন পশ্চিম নোয়াবাদী এলাকায়। চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে বাসন্তী রূপে পূজিতা দেবী দুর্গা মা। মঙ্গলবার মায়ের আরাধনার মহাষষ্ঠীর পূণ্য সন্ধ্যায় এলাকার ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত অংশের নাগরিকদের হাতে তুলে দেওয়া হল নতুন বস্ত্র এবং উপহার সামগ্রী। একইভাবে এলাকার প্রবীণ নাগরিকদের সাথে এক মুসলিম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের হাতে তুলে দেওয়া হল ভগবৎ গীতা।
 
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মায়ের মন্ডপের সামনে পূজা কমিটির সম্পাদক চন্দ্রশেখর কর মুসলিম শিক্ষকের হাতে ভগবৎ গীতা তুলে দিয়ে ধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দেন। সম্পাদক চন্দ্রশেখর কর বলেন ভগবৎ গীতার মধ্যে আমাদের প্রত্যেকের জীবন চরিত্র নিহিত রয়েছে। ভগবৎ গীতা শুধুমাত্র সনাতনীদের জন্য নয়, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সমস্ত অংশের মানুষের জন্য এটি প্রয়োজন। গীতার মধ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সমাজের প্রতি যে সব বার্তা দিয়েছেন তা আমরা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইছি।
 

অন্যদিকে পূজা কমিটির হাত থেকে গীতা উপহার পেয়ে অত্যন্ত খুশি রয়েছেন এলাকার প্রবীণ শিক্ষক কুদ্দুস মিয়া। মোহাম্মদ কুদ্দুস মিয়া বলেন ধর্ম আমাদেরকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে থেকে ন্যয়ের পথ অবলম্বন করতে শিখায়। সমস্ত ধর্মগ্রন্থের মর্ম উপলব্ধি করতে পারা আমাদের ব্যক্তিজীবনের সার্থকতা।
 
গীতা, কোরান ,বাইবেল সমস্ত ধর্মগ্রন্থই আমি পড়েছি এবং পড়তে পছন্দ করি। গ্রন্থ গুলি ভিন্ন হলেও মর্ম কথা প্রায় একই রকম। তিনি বলেন বর্তমান সময়ে যুব সমাজ যেখানে নেশা এবং উৎশৃংখলতায় ভরে যাচ্ছে সেখানে ধর্মগ্রন্থ বিতরণের মধ্য দিয়ে পূজা কমিটি সমাজকে নতুন পথ দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগে তিনি ভূয়সি প্রশংসা করেছেন।
 
পূজা মণ্ডপের একটি দৃশ্য
 
প্রসঙ্গত রাজধানী আগরতলা সংলগ্ন খয়েরপুর পশ্চিম নোয়াবাদীতে প্রথমবারের মতো বাসন্তী পূজার আয়োজন করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পশ্চিম নোয়াবাদী স্কুল মাঠে আয়োজিত বাসন্তী পূজার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এলাকার বিধায়ক রতন চক্রবর্তী। ছিলেন পূজা কমিটির সম্পাদক চন্দ্রশেখর কর, সঙ্গীতা পাল দাস, সভাপতি আশীষ দেবনাথ, মাধুরানি আইচ সহ অন্যান্যরা।
 
ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার লোকেদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। একইভাবে এলাকার ৪০ জন প্রবীণ নাগরিককে গীতা উপহার দিয়ে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়েছে। চারদিন ব্যাপী বাসন্তী পূজার আয়োজন ঘিরে এলাকাতে সম্প্রীতি এবং সৌভ্রাতৃত্বের চিত্র ফুটে উঠেছে।