শুভেন্দু অধিকারীর শোভাযাত্রায় সামিল মুসলিম সমর্থকরা বাংলায় ঐক্যের ছবি

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 2 d ago
শুভেন্দু অধিকারীর শোভাযাত্রায় সামিল মুসলিম সমর্থকরা বাংলায় ঐক্যের ছবি
শুভেন্দু অধিকারীর শোভাযাত্রায় সামিল মুসলিম সমর্থকরা বাংলায় ঐক্যের ছবি
 
কলকাতাঃ
 

 রামনবমীর শোভাযাত্রা যেন একবারে পুরো রাজ্যকে আনন্দের সাগরে ভাসিয়ে দিল। ঘিঞ্জি রাস্তা, মানুষের ঢল, হাতে হাতে পতাকা, মুখে মুখে “জয় শ্রী রাম”—এই সব মিলিয়ে যেন উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছিল চারদিকে। কিন্তু সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর ছিল সেই দৃশ্য যেখানে ধর্ম, সম্প্রদায় ও রাজনৈতিক ভিন্নতাকে ছাপিয়ে মানুষের মধ্যে এক নতুন বন্ধুত্ব ও একতার ছোঁয়া ফুটে উঠেছিল।


শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রামনবমীর মিছিলটি শুরু হয়েছিল সকাল থেকেই। শহরের কেন্দ্রীয় রাস্তা জুড়ে মানুষ দাঁড়িয়েছিল এই মিছিল দেখার জন্য। ছোট বড়, বয়সী যুবক, নারীরা—সকলেই একত্রে আনন্দের অংশ হয়ে উঠছিল। কিন্তু কিছুটা সময় পরে চোখে পড়ল এক অদ্ভুত দৃশ্য—মিছিলের ভিড়ে কয়েকজন মুসলিম যুবকও ছিলেন। তারা হাততালি দিয়ে মিছিলের আনন্দে অংশগ্রহণ করছিলেন। কেউ কেউ তাদের হাতে ছোট ছোট প্রদীপ জ্বলছিল, যেন আনন্দের এই উৎসবে তারা নিজস্ব সৌন্দর্য যোগ করে দিচ্ছিলেন।

এই দৃশ্য দেখে অনেকেই আশ্চর্য হয়েছিলেন। কারণ সমাজে মাঝে মাঝে ধর্মের ভেদাভেদকে কেন্দ্র করে বিভাজন দেখা যায়। কিন্তু এই শোভাযাত্রায় ধর্মীয় ভিন্নতা যেন কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। মুসলিম যুবকরা যখন “জয় শ্রী রাম” ধ্বনিতে হাততালি দিচ্ছিলেন, তখন প্রমাণ হচ্ছিল—ঐক্য মানে শুধু এক ধর্মের মধ্যে একতার কথা নয়, বরং মানবিকতা ও আনন্দের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলা।

শহরের একজন বলেন, “আমি আজ প্রথমবার দেখলাম যে ধর্ম বা সম্প্রদায়ের পার্থক্য এখানে কোনও প্রভাব ফেলতে পারছে না। আমরা সবাই একত্রে আনন্দ করতে পারছি, একসাথে মিছিলের অংশ হতে পারছি।” সত্যিই, এই শোভাযাত্রার মধ্যে একটা শিক্ষণীয় বার্তা ছিল—বাংলার মানুষ শিখছে, আনন্দ ভাগ করলে তা দ্বিগুণ হয়।

শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে আরও একটি মনোমুগ্ধকর মুহূর্ত তৈরি হয়। কিছু মুসলিম বাচ্চা হাত মেলিয়ে, হাসি মুখে মিছিলের সঙ্গে যোগ দেয়। তাদের পাশে থাকা হিন্দু শিশুদের চোখেও কৌতূহল এবং আনন্দ ফুটে ওঠে। দুই সম্প্রদায়ের শিশুদের এই মেলবন্ধন দেখলে মনে হয়—ভবিষ্যতের সমাজে ধর্ম কখনও বিভাজনের কারণ হবে না, বরং বন্ধুত্ব ও একতার উৎস হবে।

মিছিল চলাকালীন সময়ে, স্থানীয় বাসিন্দারা খাবার, জল ও ফল বিতরণ করতে থাকেন। প্রত্যেকেই যেন একে অপরকে পরিবারের মতো গ্রহণ করছে। হিন্দু, মুসলিম, শিখ—সকলেই একসাথে বসে খাচ্ছে, হাসছে, গল্প করছে। এই দৃশ্য প্রমাণ করছিল, উৎসব মানেই কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং মানুষের মধ্যে মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলা।

শোভাযাত্রা শেষ হবার পরও মানুষের মধ্যে এই আনন্দের ছাপ স্পষ্ট ছিল। মানুষ বাড়ি ফিরছিলেও তারা একে অপরকে নমস্কার দিচ্ছিল, হাতে হাত মিলাচ্ছিল। শহরের বাতাস যেন এক অন্যরকম শান্তি ও ভালোবাসায় ভরে উঠেছিল। কেউ কেউ বলছিলেন, “আজকের এই দৃশ্য সত্যিই এক অন্যরকম শিক্ষা দিল। আমরা দেখলাম, একসাথে আনন্দ ভাগ করলে সব ভিন্নতা ভুলে যাওয়া যায়।”

শুভেন্দু অধিকারীও মিছিল শেষে বলেন, “এই মিছিল শুধু রামনবমীর উদযাপন নয়। এটি আমাদের শেখায়—ধর্ম, সম্প্রদায় বা রাজনৈতিক ভিন্নতা কখনো আমাদের একতার পথে বাধা হতে পারে না। আমরা সবাই মানব। আমরা সবাই আনন্দ ভাগ করতে পারি। এই আনন্দ ও ঐক্যই আমাদের শক্তি।”
 
এভাবেই বাংলা দেখতে পেলো একটি নতুন ছবি—ঐক্য এবং সম্প্রীতির। রাস্তায় মানুষের আনন্দ, মিছিলের ধ্বনি, শিশুদের হাসি, মুসলিম ও হিন্দু সকলের একসাথে অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে যেন সমাজের জন্য এক মূল্যবান বার্তা।

যে দিন মানুষ ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ভিন্নতাকে পার্থক্য হিসেবে না দেখে একে অপরকে গ্রহণ করতে শিখবে, সেই দিন সত্যিই সমাজে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসবে। এই শোভাযাত্রা প্রমাণ করল, আনন্দ এবং মানবিক সম্পর্কের মাধ্যমে মানুষ যে কোনও বিভাজন দূর করতে পারে। এই দিন বাংলার মানুষ শুধু রামনবমী উদযাপন করল না, তারা উদযাপন করল ঐক্য, সম্প্রীতি এবং মানবতার।

শোভাযাত্রার এই মুহূর্ত বাংলার জন্য এক শিক্ষা হয়ে থাকবে—যেখানে ধর্ম বা সম্প্রদায় নয়, বরং মানবিক একতা এবং আনন্দের ভাগাভাগিই হবে সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার মূল শক্তি।