১৬ বছর পর শীতের কোলে রমজান, ২০২৬

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 5 d ago
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি
 
আর্সালা খান / নয়াদিল্লি

প্রায় দেড় দশক পর আবার শীতের সময়ে ফিরে আসছে পবিত্র রমজান। ২০২৬ সালে শীতকালেই রোজা পড়ায় দীর্ঘ সময় ধরে গ্রীষ্মের তাপদাহে রোজা রাখার ক্লান্তি থেকে বড় স্বস্তি পেতে চলেছেন মুসলিমরা। শীতল আবহাওয়া ও তুলনামূলকভাবে ছোট রোজার সময়কাল ইবাদতকে করবে আরও সহজ ও মনঃসংযোগপূর্ণ।
 
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২০২৬ সালে রমজান শুরু হতে পারে বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি নাগাদ এবং শেষ হতে পারে ১৯ মার্চ। ঈদ-উল-ফিতর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা ২০ বা ২১ মার্চ। ইসলামি চন্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী রমজান মাস জুড়ে ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখা, নামাজ, দান-খয়রাত ও আত্মশুদ্ধির চর্চা করা হয়।
 
দিল্লির জমা মসজিদের এক দৃশ্য
 
রমজান মুসলিমদের জন্য আত্মিক উন্নতি ও ইবাদতের বিশেষ সময়। এ মাসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য, পানীয় ও ধূমপান থেকে বিরত থাকেন রোজাদাররা। ‘সাওম’ নামে পরিচিত এই রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম, যার উদ্দেশ্য আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং অভাবগ্রস্ত মানুষের কষ্ট অনুভব করা।
 
শীতকালে রমজান পড়ায় ভারতসহ বহু দেশে রোজাদাররা দেরিতে সেহরি করতে পারবেন এবং তুলনামূলকভাবে আগেভাগেই ইফতার করতে পারবেন। ফলে দৈনন্দিন কাজকর্মের সঙ্গে রোজা পালন হবে সহজতর।
 
প্রতীকী ছবি
 
এর আগে সর্বশেষ ২০০৯–১০ সালে শীতকালে রমজান এসেছিল। এরপর প্রতি বছর ইসলামি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১০–১১ দিন করে এগিয়ে গিয়ে গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে দীর্ঘ রোজা রাখতে হয়েছে মুসলিমদের। ২০২৬ সালে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে চলেছে।
 
আবহাওয়ার দিক থেকে উত্তর ভারতে রমজানের প্রথম দিকে তাপমাত্রা ১০ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও বিহারে সকাল-রাতে হালকা শীত থাকলেও দিনভর আবহাওয়া থাকবে মনোরম। দক্ষিণ ভারতে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি হলেও তা অসহনীয় হবে না। সব মিলিয়ে রমজান ২০২৬ রোজাদারদের জন্য বেশ অনুকূল বলেই মনে করা হচ্ছে।
 
দিল্লির জামা মসজিদে রমজান মাসে রোজা ভাঙছে একটি পরিবার (ফাইল)
 
ফেব্রুয়ারিতে দিন ছোট হওয়ায় রোজার সময়কালও কম হবে, প্রায় ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা। গ্রীষ্মকালের ১৫–১৬ ঘণ্টার দীর্ঘ রোজার তুলনায় এটি বিশেষভাবে স্বস্তিদায়ক হবে বয়স্ক, নারী ও কর্মজীবীদের জন্য।
 
রাজব মাসের চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদগুলোতে ইবাদতের আবহ তৈরি হতে শুরু হয়েছে। অনেক জায়গায় নফল রোজা, নামাজ ও জিকির-আজকারের পরিমাণ বেড়েছে। ইসলামিক পণ্ডিতেরা বলেন, রাজব আত্মসমালোচনা ও প্রস্তুতির মাস, শা’বান অনুশীলনের সময়, আর রমজান হলো ধৈর্য ও ইবাদতের চূড়ান্ত পর্ব।
এখন সবার দৃষ্টি শা’বান মাসের চাঁদের দিকে, যা রমজানের সঠিক তারিখ নির্ধারণ করবে।