নয়া দিল্লি:
১ এপ্রিল থেকে কার্যকরভাবে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রধান শহরগুলোতে বিশেষ করে বাণিজ্যিক ও ছোট সিলিন্ডারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, দিল্লিতে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৯৫.৫০ টাকা বেড়ে ২,০৭৮.৫০ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে, ৫ কেজির ছোট (FTL) সিলিন্ডারের দাম ৫১ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি রিফিলের জন্য ৫৪৯ টাকা হয়েছে।
কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ২১৮ টাকা বেড়েছে, যা শহরাঞ্চলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির একটি বিস্তৃত প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে, গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ৭ মার্চ ১৪.২ কেজির গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল এবং বর্তমানে দিল্লিতে এর মূল্য ৯১৩ টাকা।
সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। এই উত্তেজনার ফলে কাঁচা তেল ও জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে প্রধান মেট্রো শহরগুলোতে বিমান জ্বালানি (Aviation Turbine Fuel - ATF)-এর দামও বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কিলোলিটারে এই জ্বালানির দাম দিল্লিতে ১,০৪,৯২৭ টাকা এবং কলকাতায় ১,০৯,৪৫০ টাকা হয়েছে। একইভাবে মুম্বাইতে ৯৮,২৪৭ টাকা এবং চেন্নাইতে ১,০৯,৮৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে কাঁচা তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই দাম বাড়ানো হয়েছে, যা বিমান চলাচল ও যাত্রার খরচে প্রভাব ফেলবে।
পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, কাঁচা তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রিফাইনিং ক্র্যাক স্প্রেড বাড়ার কারণে বিশ্বজুড়ে জেট জ্বালানির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এর আগে, ১৯৪৪ সালের কেন্দ্রীয় আবগারি আইনের অধীনে জারি করা একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কেন্দ্র সরকার পেট্রোলের আবগারি শুল্ক প্রতি লিটারে ৩ টাকা এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে শূন্যে নামিয়ে আনে। পাশাপাশি, ডিজেল রপ্তানির ওপর প্রতি লিটারে ২১.৫ টাকার ‘উইন্ডফল ট্যাক্স’ আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে, সরকার দাবি করেছে যে দেশজুড়ে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “দেশের সব খুচরা আউটলেট স্বাভাবিকভাবে চলছে” এবং “সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত পেট্রোল ও ডিজেল মজুত রয়েছে।” একই সঙ্গে গুজবে কান না দিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত জ্বালানি না কেনার জন্য নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে দেশের শোধনাগারগুলো পর্যাপ্ত কাঁচা তেল নিয়ে পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং বাজারের চাহিদা মেটাতে গৃহস্থালির এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে।