নয়াদিল্লি ঃ
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক বুধবার স্পষ্ট জানিয়েছে যে আন্তর্জাতিক জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতির পরেও গৃহস্থালির এলপিজি গ্রাহক, সাধারণ পেট্রোল ও ডিজেল ব্যবহারকারীরা বড় অংশে এর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রয়েছেন। তবে বাণিজ্যিক এলপিজি এবং প্রিমিয়াম পেট্রোলের দামে বৃদ্ধি দেখা গেছে।
এক্স (X)-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রক জানায়, বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাজার নির্ধারিত এবং সাধারণত প্রতি মাসে সংশোধন করা হয়। এগুলো মূলত শিল্প ও হোটেল খাতে ব্যবহৃত হয় এবং দেশের মোট এলপিজি ব্যবহারের ১০ শতাংশেরও কম।
মন্ত্রক জানায়, ১ এপ্রিল বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধির কারণ হলো সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস ৪৪ শতাংশ বেড়ে মার্চে প্রতি মেট্রিক টন ৫৪২ ডলার থেকে এপ্রিলে ৭৮০ ডলারে পৌঁছানো। পাশাপাশি, বিশ্বব্যাপী এলপিজি সরবরাহের ২০-৩০ শতাংশ ‘হরমুজ প্রণালী’-তে আটকে রয়েছে।
মন্ত্রক জোর দিয়ে বলেছে, সরকারের নীতির আওতায় গৃহস্থালির গ্রাহকদের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। ১৪.২ কেজির গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দাম ৯১৩ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর উজ্জ্বলা যোজনা (PMUY) উপভোক্তাদের জন্য দাম ৬১৩ টাকা রয়েছে।
বর্তমান দামে তেল বিপণন সংস্থাগুলো (OMCs) প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৩৮০ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মে মাসের শেষে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০,৪৮৪ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। গত বছরও মোট ৬০,০০০ কোটি টাকার ক্ষতির মধ্যে ৩০,০০০ কোটি তেল সংস্থাগুলি এবং ৩০,০০০ কোটি কেন্দ্র সরকার বহন করেছিল, যাতে সাধারণ মানুষ আন্তর্জাতিক দামের প্রভাব থেকে রক্ষা পায়।
মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, পাকিস্তান (১,০৪৬ টাকা), শ্রীলঙ্কা (১,২৪২ টাকা) এবং নেপাল (১,২০৮ টাকা)-এর তুলনায় ভারতে গৃহস্থালির এলপিজির দাম এখনও কম।
পেট্রোল ও ডিজেলের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে, দিল্লিতে সাধারণ পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৯৪.৭৭ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৮৭.৬৭ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও গত এক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, তবুও তেল সংস্থাগুলি পেট্রোলে লিটার প্রতি ২৪.৪০ টাকা এবং ডিজেলে ১০৪.৯৯ টাকা ক্ষতি বহন করছে।
মন্ত্রক জানিয়েছে, শুধুমাত্র প্রিমিয়াম পেট্রোল—যেমন XP95, Power95, Speed—যেগুলো মোট বিক্রির ২-৫ শতাংশ, সেগুলোর দাম লিটার প্রতি ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এগুলো উচ্চমানের জ্বালানি এবং ক্রেতারা স্বেচ্ছায় বেশি দামে কিনে থাকেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি পাম্পে সাধারণ পেট্রোল ও ডিজেল আগের দামেই পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
এই স্পষ্টীকরণ এমন সময়ে এসেছে যখন ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল ও এলপিজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
এর আগে ১ এপ্রিল থেকে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সংশোধন করা হয়। দিল্লিতে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১৯৫.৫০ টাকা বেড়ে ২,০৭৮.৫০ টাকা হয়েছে এবং ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারের দাম ৫১ টাকা বেড়ে ৫৪৯ টাকা হয়েছে। কলকাতায় ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২১৮ টাকা বেড়েছে।
অন্যদিকে, গৃহস্থালির এলপিজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ৭ মার্চ ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল এবং বর্তমানে দিল্লিতে এর দাম ৯১৩ টাকা।