গুয়াহাটি চা নিলাম কেন্দ্র মানসম্মত চায়ের দামে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 15 h ago
গুয়াহাটি চা নিলাম কেন্দ্র মানসম্মত চায়ের দামে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে
গুয়াহাটি চা নিলাম কেন্দ্র মানসম্মত চায়ের দামে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে
 
গুয়াহাটি 

গুয়াহাটি টি অকশন সেন্টার (GTAC) আবারও নতুন ইতিহাস গড়েছে। উৎকৃষ্ট মানের চায়ের অন্যতম প্রধান বিপণন কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে, জিটিএসি উচ্চমূল্যের মাধ্যমে গুণগত মানের প্রতি উৎপাদকদের ধারাবাহিক মনোযোগকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
 
গুয়াহাটি টি অকশন বায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সচিব দিনেশ বিহানি জানান, সম্প্রতি ডেকিয়াজুলি টি এস্টেটের একটি প্রিমিয়াম সিটিসি লিফ চা নিলামে কেজিপ্রতি ১,১০৩ টাকা দামে বিক্রি হয়ে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
 
তিনি বলেন, একই বাগানের আরেকটি চায়ের লট কেজিপ্রতি ৯৭৩ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে, যা উচ্চমানের চায়ের প্রতি ক্রেতাদের প্রবল আস্থার প্রতিফলন।
 
প্যারি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর মালিকানাধীন ডেকিয়াজুলি টি এস্টেট দীর্ঘদিন ধরেই প্রিমিয়াম মানের চা উৎপাদনের ওপর জোর দিয়ে আসছে।
 
সংস্থার অ্যাসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট (মার্কেটিং) জো লুইস জানান, বছরের পর বছর ধরে গুণগত মান বজায় রাখার যে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, তার সুফল এখন স্পষ্টভাবে মিলছে। নিলামে প্রাপ্ত উচ্চমূল্য তাদের দলের নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমেরই স্বীকৃতি।
 
এদিকে, চলতি সপ্তাহে আরেকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে সোটাই টি এস্টেট-এর ঝুলিতে। বাগানটির চা কেজিপ্রতি ৮৮৯ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে, যা ওই বাগানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য।
 
দিনেশ বিহানি আরও জানান, সেল নম্বর ২৩-এ ৪০০ টাকার বেশি দামে ৬৫ হাজার কেজিরও বেশি চা বিক্রি হয়েছে। এটি জিটিএসি-তে উৎপাদিত উচ্চমানের চায়ের প্রতি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এবং আস্থার প্রমাণ।
 
চা শিল্পকে উৎসাহ দিতে অসম সরকার সম্প্রতি অর্থোডক্স চা প্রস্তুতকারকদের জন্য কেজিপ্রতি ১৫ টাকার ভর্তুকি ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপে অর্থোডক্স চা উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
 
বর্তমানে সিটিসি চায়ের ক্ষেত্রে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নিলাম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জিটিএসি এখন অর্থোডক্স চায়ের বাজারেও নিজেদের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে।
 
এর ফলে আরও বেশি রপ্তানিকারক ক্রেতা আকৃষ্ট হবে এবং নিলাম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি চা রপ্তানির সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
 
গুণগত মানসম্পন্ন চায়ের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে গুয়াহাটি টি অকশন সেন্টার ক্রমশ তার সুনাম সুদৃঢ় করছে, যার সুফল পাচ্ছেন উৎপাদক, ক্রেতা এবং সমগ্র চা শিল্প।