কড়া নিরাপত্তায় ৭৭ কেন্দ্রে ভোটগণনা, জওয়ানদের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বদলে যাওয়া বাংলার ভোটগণনার ছবি
তরুণ নন্দী, কলকাতা:
কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে রাজ্যের ৭৭টি গননা কেন্দ্রে চলছে ভোটগণনার কাজ। ভাগ্যনির্ধারণ শুরু হয়েছে প্রার্থীদের। তবে এবারের গণনা প্রক্রিয়ায় সবথেকে বেশি নজর কেড়েছে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। ভোটগণনা কেন্দ্র করে যাতে কোনও প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে কমিশন কার্যত এবার কোমর বেঁধে নেমেছে। যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে প্রতিটি গননাকেন্দ্রে।
গননায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত ১৬৫ জন কাউন্টিং অবজার্ভার। নিয়োদ হয়েছে ৭৭ জন পুলিশ অবজার্ভার। প্রতিটি টেবিলে কী ঘটছে, তার ওপর কড়া নজর রাখতেই এই পরিকল্পনা নিয়েছে কমিশন।দেখা গেছে, প্রতিটি গণনাকেন্দ্রকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপস্থিতিতে মনে স্বস্তি ফিরেছে বঙ্গবাসীর। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ভোট-পরবর্তী হিংসার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। আর এই কারণের জন্য কমিশনের এটা বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী, আজ সকাল ৮টা থেকে প্রথমে শুরু হয় পোস্টাল ব্যালট গণনা। এরপর সাড়ে ৮টা থেকে ইভিএম (EVM)-এর ভোট গোনা শুরু হয়ে যায়। কমিশনের নির্দেশ মতো, কোনো কেন্দ্রে ১৫ রাউন্ড গণনা হলে, ১৩ রাউন্ড শেষ হওয়ার পর ১৪ তম রাউন্ড শুরুর আগেই সমস্ত পোস্টাল ব্যালটের গণনা সম্পন্ন করতে হবে।
গোটা রাজ্যের মধ্যে হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুর। এই কেন্দ্রে ইভিএম-এর মোট ২০ রাউন্ড গণনা হবে এবং ৪টি টেবিলে পোস্টাল ব্যালট গোনার কাজ চলছে। তবে এবার ভোটপর্ব মেটার পর শিরোনামে উঠে এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। কারচুপির অভিযোগ খতিয়ে দেখে কমিশন সেখানে ২৯ এপ্রিলের ভোট বাতিল করে দেয়। এই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হবে ২১ মে। আর ফল ঘোষণা হবে ২৪ মে। ফলে আজ ২৯৪টির পরিবর্তে ২৯৩টি আসনের ফলাফল ঘোষিত হতে চলেছে।
সাধারণত ভোটের ফল ঘোষণার আগে ও পরে যে ধরনের রাজনৈতিক উত্তাপের বাতাবরণ দেখা যায় এবার তা অনেকটাই স্তিমিত। উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া টহলদারির ফলে ভোট পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের এই নিরপেক্ষ ও কঠোর অবস্থান বাড়তি কুর্নিশ আদায় করে দিল বঙ্গলাসীর কাছ থেকে। আজ বিকেল গড়াতেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কার মাথায় উঠছে জয়ের মুকুট। তবে আপাতত কমিশনের এই নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থাপনাই হয়ত গোটাদিনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।