দুর্নীতির অভিযোগে কড়া বার্তা, দলীয় কর্মীদের সতর্ক করলেন বিজেপির বঙ্গ সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 3 h ago
দুর্নীতির অভিযোগে কড়া বার্তা, দলীয় কর্মীদের সতর্ক করলেন বিজেপির বঙ্গ সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য
দুর্নীতির অভিযোগে কড়া বার্তা, দলীয় কর্মীদের সতর্ক করলেন বিজেপির বঙ্গ সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য
 
কলকাতা: 

দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ঘিরে এবার দলীয় কর্মী ও নেতাদের কড়া সতর্কবার্তা দিলেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে, এমন কোনও কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার দলের একটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে।

মে মাসে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে এই ‘জরুরি সতর্কবার্তা’ দেওয়া হয়েছে।

বিজেপির সাংগঠনিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলিতে ছড়িয়ে দেওয়া বার্তায় দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দলের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য, জেলা, অঞ্চল, মণ্ডল ও বুথ স্তরের সমস্ত নেতা-কর্মীর উদ্দেশে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, সততা, স্বচ্ছতা এবং দলের আদর্শই বিজেপির মূল চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং দেশসেবার সংকল্পকে বিজেপির কাজের ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শমীক ভট্টাচার্য জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন স্তরের দলীয় কর্মীদের সঙ্গে যুক্ত কিছু অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড ও অনিয়মের বিষয়ে চিঠি এবং বার্তার মাধ্যমে তাঁর কাছে তথ্য এসেছে।

দলের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, বুথ স্তর থেকে রাজ্য স্তর পর্যন্ত দলের প্রতিটি সদস্যের ক্ষেত্রেই এই সতর্কবার্তা প্রযোজ্য। দলের নীতি ও আদর্শের বাইরে গিয়ে কেউ কোনও অনৈতিক বা দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে তার দায় দল নেবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।দলীয় কর্মী ও নেতাদের জন্য তিনটি নির্দেশনাও দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

প্রথমত, দুর্নীতি বা অনিয়মের সামান্যতম প্রমাণ পাওয়া গেলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির পদমর্যাদা বা অবস্থান বিবেচনা না করে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত স্বার্থে এমন কোনও কাজ করা যাবে না, যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা দীর্ঘদিন ধরে দলের কর্মীরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

তৃতীয়ত, জনসেবাকেই দলের মূল লক্ষ্য হিসেবে রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রেখে প্রতিটি নেতা-কর্মীকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে শমীক ভট্টাচার্য আবেদন করেন, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে দলের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।দলীয় সূত্রের দাবি, রাজ্যের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারী, নেতা ও কর্মীদের কাছে এই বার্তা পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ১ আগস্টও একই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। ওই সময় তিনি এই ধরনের কর্মকাণ্ডে অভিযুক্তদের ১৫ দিনের মধ্যে নিজেদের সংশোধনের সময় দিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর বার্তা ছিল, নিজেদের সংশোধন না করলে বিজেপি কী ব্যবস্থা নিতে পারে, তা দেখিয়ে দেওয়া হবে।

বিজেপির নামে তোলাবাজির অভিযোগে কিছু ব্যক্তি জড়িয়ে পড়েছেন বলেও তিনি তখন স্বীকার করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, অভিযোগের মুখে থাকা অনেকেই এমন ব্যক্তি, যারা ‘রাতারাতি’ বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।