শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
টলিউডে পুজোর মরসুম মানেই একের পর এক নতুন ছবি, দর্শকের প্রত্যাশা, আর বক্স অফিসে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তবে গত তিন বছর ধরে এই প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে যে প্রোডাকশন হাউস একচেটিয়া দাপট দেখাচ্ছে, তা হলো উইনডোজ। পরিচালক জুটি শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের হাতে তৈরি এই ব্যানার ইতিমধ্যেই টলিউডে “পুজোর ছবি”র সমার্থক হয়ে উঠেছে। পারিবারিক ছবি দিয়ে শুরু হলেও ২০২৩ থেকে তাঁরা ঝুঁকেছেন নতুন স্বাদের ছবির দিকে, আর সেখানেই বাজিমাত।
২০২৩ সালের পুজোয় মুক্তি পায় তাঁদের প্রথম অ্যাকশন-থ্রিলার রক্তবীজ। খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ছবিটি একেবারেই নতুন ধারা উপহার দেয় দর্শকদের। ছকভাঙা চরিত্রে পুলিশ অফিসার সংযুক্তা হিসেবে মিমি চক্রবর্তী ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক পঙ্কজ সিংহ হিসেবে আবীর চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ছবির প্রাণ। বহু বছর পর ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন ছবিকে বাড়তি মাত্রা দেয়। রক্তবীজ বক্স অফিসে বিপুল ব্যবসা করে উইনডোজকে নতুন যাত্রাপথে নিয়ে যায়।
এরপর ২০২৪ সালের পুজোয় আসে বহুরূপী। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ছদ্মবেশী ডাকাতের কাহিনি দর্শককে চমকে দেয়। কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের ‘ঝিমলি’ চরিত্রে অভিনয় ছিল তার কেরিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। গল্প, গান ও অভিনয়ের সমন্বয়ে বহুরূপীও পুজোর ছবির ভিড়ে সফলতা পায়।
এই ধারার সর্বশেষ সংযোজন ২০২৫ সালের পুজোয় মুক্তি পাওয়া রক্তবীজ ২। এবার কাহিনির প্রেক্ষাপট রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বাংলাদেশ সফর। ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে নড়াইলের ভদ্রবিলার ঘোষবাড়ির পরিবেশ, যেখানে শৈশব কেটেছিল শুভ্রাদেবীর। মুক্তির দ্বিতীয় দিন সকালেই ৩৫টিরও বেশি শো হাউসফুল হয়ে যাওয়া প্রমাণ করে, দর্শকরা আবারও সাদরে গ্রহণ করেছেন শিবু-নন্দিতার অ্যাকশন-থ্রিলার।
অভিনয়ে ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়, অনসূয়া মজুমদার, আবীর চট্টোপাধ্যায়, মিমি চক্রবর্তী, অঙ্কুশ হাজরা, কৌশানী মুখোপাধ্যায় প্রত্যেকে নিজেদের চরিত্রে উজ্জ্বল। আইটেম ডান্সে নজর কেড়েছেন নুসরত জাহান। কনটেন্ট ও অভিনয়ের সমন্বয়ে ছবিটি অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছবিকে অনেকটাই পিছনে ফেলেছে।
পরপর তিন বছর; রক্তবীজ (২০২৩), বহুরূপী (২০২৪) ও রক্তবীজ ২ (২০২৫); উইনডোজ প্রমাণ করেছে যে দর্শককে আকৃষ্ট করতে তারকার ঝলক নয়, বরং শক্তিশালী গল্পই আসল মূলধন। তাই এই সাফল্যকে নিঃসন্দেহে টলিউডে “পুজোর হ্যাটট্রিক” বলা যায়।