দীঘার সমুদ্র সৈকতে অসম-বঙ্গ মৈত্রী সম্মেলনে জুবিন গার্গকে স্মরণ

Story by  Debkishor Chakraborty | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 19 d ago
দীঘার সমুদ্র সৈকতে অসম-বঙ্গ মৈত্রী সম্মেলনে জুবিন গার্গকে স্মরণ
দীঘার সমুদ্র সৈকতে অসম-বঙ্গ মৈত্রী সম্মেলনে জুবিন গার্গকে স্মরণ
দেবকিশোর চক্রবর্তী

রবিবারের সোনালি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সমুদ্র সৈকত দীঘায় আয়োজন করা হয় এক অনন্য সাহিত্য-সংস্কৃতি উৎসব।‘অসম-বঙ্গ মৈত্রী সম্মেলে দুই প্রান্তের ভাষা ও সংস্কৃতির মিলনমেলার। অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ছিলেন হাওড়া জেলার সাহিত্য পত্রিকা ‘অপূ দূর্গা’ এবং অসমের সাহিত্য পত্রিকা ‘কৃষ্টি পাথর’।

এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল বাংলা ও অসমের সাহিত্যিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করা, দুই রাজ্যের সংস্কৃতির আদান-প্রদান ঘটানো এবং নবীন লেখকদের একত্রিত করে এক বন্ধুত্বপূর্ণ সাহিত্য মঞ্চ তৈরি করা। সকাল থেকে শুরু হয়ে এই অনুষ্ঠান চলে সারাদিন ধরে। প্রায় চল্লিশজন সাহিত্য প্রতিনিধি এতে যোগ দেন। অসমের তরফে প্রতিনিধিত্ব করেন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক মহানন্দ সরকার, যিনি সমগ্র প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ‘অপূ দূর্গা’ পত্রিকার সম্পাদক চৈতালী দাস মজুমদার, যার দক্ষ সংগঠনে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে দুই রাজ্যের সাহিত্যিকরা পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দুই রাজ্যের ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরেন। পরবর্তী পর্যায়ে শুরু হয় কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নেন রত্না মিত্র, মুনমুন চক্রবর্তী, সুপর্ণা সরকার, শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ সহ আরও অনেকে। তাদের কবিতায় উঠে আসে প্রকৃতি, প্রেম, সমাজ ও মানুষের জীবনের নানা অনুষঙ্গ।
 
দুই রাজ্যের প্রতিনিধিরা একে অপরকে উত্তরীয় ও গামোছা দিয়ে বরণ করে নেন। অসম থেকে প্রায় ৫০জন শিল্পী একযোগে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিল্পীরা এখানে অংশ নেন। অসম থেকে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করতে এদিন হাজির ছিলেন কবি ও সাংবাদিক মহানন্দ সরকার।

সন্ধ্যার পর্বে ছিল সঙ্গীত ও আলোচনাসভা। আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, অসম ও বাংলার সাংস্কৃতিক বন্ধন বহু প্রাচীন। ভাষা আলাদা হলেও হৃদয়ের সুর এক। এই ধরনের মৈত্রী সম্মেলন দুই রাজ্যের সম্পর্ক আরও গভীর করবে, তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে একতার বার্তা।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে ছিল মুক্ত আড্ডা, নাচ, গান ও সাহিত্যচর্চা। সমুদ্রের ঢেউয়ের ছন্দে মিশে গিয়েছিল কবিদের কণ্ঠস্বর। উপস্থিত সকলেই অনুভব করেন, সাহিত্য শুধু শব্দের বিনিময় নয়, এটি মনের সেতুবন্ধনও।

দিনশেষে সংগঠকরা জানান, এই মৈত্রী সম্মেলনকে নিয়মিত বার্ষিক আকারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি সাহিত্যিক অংশ নিতে পারেন। সমুদ্রের বুকে সূর্যাস্তের আলোয় যখন অনুষ্ঠান শেষ হয়, তখন সকলের মুখে একটাই কথা— “অসম ও বাংলার হৃদয় আজ সত্যিই এক সুরে বাঁধা পড়ল।”