কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ:
বাউল সম্রাট লালন সাঁইজির দর্শন ও মানবধর্মের বাণীকে ধারণ করে শুরু হয়েছে লালন মিলন উৎসব। বাংলাদেশ-এর কুষ্টিয়া জেলার ছেঁউড়িয়া আখড়া প্রাঙ্গণে দেশ-বিদেশ থেকে আগত বাউল, সাধক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসব পরিণত হয়েছে এক অনন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।
উৎসবের উদ্বোধনের পর থেকেই আখড়া প্রাঙ্গণে ভেসে উঠছে লালনের গান—মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি—এই মর্মবাণী যেন নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে মানবতার দর্শন। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ একসঙ্গে বসে গান শুনছেন, আলোচনা করছেন এবং লালনের আদর্শ নিয়ে মতবিনিময় করছেন।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উৎসব কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি মানবধর্ম, সহনশীলতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক জীবন্ত প্রতীক। লালন একাডেমি-র সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের কাছে লালনের দর্শন পৌঁছে দেওয়া এবং সমাজে সম্প্রীতির চর্চা আরও জোরদার করা।
উৎসবে অংশ নিতে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই বলেন, বর্তমান সময়ে যখন নানা বিভাজন সমাজকে আঘাত করছে, তখন লালনের শিক্ষা—“সবার উপরে মানুষ সত্য”—মানুষকে আবারও একসূত্রে বাঁধার শক্তি জোগায়। এখানে ধর্মের পরিচয় নয়, মানুষ হিসেবে একে অপরকে জানার মধ্যেই মিলছে প্রকৃত শান্তি।
দু’দিনব্যাপী এই মিলন উৎসবে রয়েছে বাউলগান, সাধুসঙ্গ, দর্শনচর্চা ও আলোচনা সভা। রাতভর চলা গানের আসর যেন প্রমাণ করছে—লালনের ভাবধারা আজও সমান প্রাসঙ্গিক, আর তার আখড়া এখনো হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক।