ত্রিপুরায় সম্প্রীতি এবং বিশ্ব শান্তির বার্তা নিয়ে ইন্দ্রনগরে জশনে ঈদে মিলাদুন্নবীর আয়োজন
নূরুল হক, আগরতলা ঃ
ত্রিপুরায় সম্প্রীতি,সৌভাতৃত্ব এবং বিশ্ব শান্তির বার্তা নিয়ে প্রতি বছরের মত এবারো ইন্দ্রনগরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী তথা সৌভ্রাতৃত্ব সম্মেলন। আগামী ২ মে শনিবার বাংলা ১৮ বৈশাখ ইন্দ্রনগর গাউছিয়া সমিতির মসজিদ প্রাঙ্গনে এই অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ চট্টগ্রামের প্রখ্যাত পীর সৈয়দ মছিওদুল্লাহ সাহেব। থাকবেন ধর্মবর্ণ এবং রাজনীতির উর্ধ্বে সামাজিক প্রতিনিধি এবং অতিথিরা।
ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার অন্যতম মুসলিম ধর্মীয় এই অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। এই উপলক্ষে রবিবার ইন্দ্রনগর 'বাগে হুদা' দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয় প্রস্তুতি বৈঠক। আগরতলা গাউছিয়া সমিতি এবং আল্লামা অধ্যক্ষ সৈয়দ শামসুল হুদা স্মৃতি সংসদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিনিধিরা অংশ নেন।আয়োজক কমিটির তরফে গাউছিয়া সমিতির প্রচার সম্পাদক মোঃ মনোহর আলী বলেন প্রতিবছর ১২ ফাল্গুন তারিখে এই ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর রমজান মাস থাকায় এই অনুষ্ঠান পিছিয়ে গেছে। ১২ ফাল্গুনের পরিবর্তে ২ মে বাংলা ১৮ বৈশাখ এই অনুষ্ঠান হবে।
আল্লামা অধ্যক্ষ সৈয়দ শামসুল হুদা স্মৃতি সংসদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকের ছবি
এদিন প্রস্তুতি কমিটির বৈঠকে অনুষ্ঠানের সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ঐদিন বাদে জোহার অর্থাৎ দুপুরে জোহরের নামাজের পর থেকে রাত পর্যন্ত চলবে সৌভ্রাতৃত্ব সম্মেলন, ধর্মীয় আলোচনা , আখেরি মোনাজাত এবং তাবারুক বিতরণ। আখেরি মোনাজাতে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বিশ্ব শান্তির জন্য বিশেষভাবে দোয়া করা হবে। প্রসঙ্গত বিগত ৩০ বছর যাবত রাজধানীর বুকে এই অনুষ্ঠান ঐতিহ্যের সাথে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
চট্টগ্রামের পীর সাহেবের অনুগামীদের মধ্যে হিন্দু মুসলিম জাতি জনজাতির লোক রয়েছেন। সবার সমবেত চেষ্টাতেই এই অনুষ্ঠান সম্প্রীতির মিলনস্থলে পরিণত হয়। এবারো ঐতিহ্যের মধ্য দিয়েই এই ঈদে মিলাদুন্নবী সম্প্রীতি এবং বিশ্ব শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেবে বলে আয়োজক কমিটি আসা ব্যক্ত করেছেন।