টলিউডে শোকের ছায়া, ক্ষোভে ফুঁসছে শিল্পীমহল—অকাল মৃত্যু ঘিরে শুরু “নিরাপত্তার যুদ্ধ”
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
টলিউডের তরুণ অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে স্টুডিওপাড়ায়। এই ঘটনাকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে চিহ্নিত করে শিল্পীদের সংগঠন আর্টিস্ট ফোরাম অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে। শুটিং সেটে নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে সরব হয়ে উঠেছেন অভিনেতা থেকে টেকনিশিয়ান—সমগ্র কলাকুশলী মহল।
রবিবার বিকেল পাঁচটায় টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে ডাকা হয় জরুরি বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, ইশা সাহা, দেবলীনা দত্ত, অঞ্জনা বসু, জীতু কামাল সহ আরও বহু শিল্পী। বৈঠকে শুটিং চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি, প্রোটোকলের অভাব এবং কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
ফেডারেশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আর্টিস্ট ফোরামের জেনারেল সেক্রেটারি শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন—“এই মৃত্যু শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি আমাদের সিস্টেমের ব্যর্থতা। যতদিন না পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা নীতিমালা কার্যকর হচ্ছে, ততদিন কাজ বন্ধ থাকবে।”
শিল্পীমহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই শুটিং সেটে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি অবহেলিত হয়েছে। পর্যাপ্ত মেডিক্যাল সাপোর্ট, জরুরি পরিষেবা, এবং ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যে সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রায়শই উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ।এই ঘটনার পর টলিউডে এখন একটাই স্লোগান—“নিরাপত্তা না থাকলে শুটিং নয়।” রাহুলের মৃত্যু যেন শিল্পীদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, গ্ল্যামারের আড়ালে কতটা অনিরাপদ তাদের কর্মক্ষেত্র।
এখন দেখার, এই “নিরাপত্তার যুদ্ধ”-এ শিল্পীদের দাবি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায় কিনা।