“শেষ মুহূর্তে কামব্যাক!” — ট্রাইবুনালের রায়ে ভোটের ময়দানে ফিরলেন মহতাব, ফরাক্কায় নতুন সমীকরণ
দেবকিশোর চক্রবর্তী। ফরাক্কা
ফরাক্কার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নাটকীয় মোড় এনে দিল এক গুরুত্বপূর্ণ ট্রাইবুনাল রায়। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় কার্যত নির্বাচনের দৌড় থেকেই ছিটকে গিয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখ। কিন্তু আইনি লড়াইয়ের শেষে মিলল স্বস্তি—ট্রাইবুনাল নির্দেশ দিল তাঁর নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে। ফলে ফের একবার ভোটের ময়দানে নামার সুযোগ পেলেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সেই তালিকায় লক্ষাধিক ভোটারের নাম যাচাইয়ের জন্য বিবেচনাধীন ছিল। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশে এই সমস্ত ভোটারের তথ্য খতিয়ে দেখে ধাপে ধাপে নিষ্পত্তির কাজ শুরু হয়। কমিশন জানায়, যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন।
এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই নাম বাদ পড়ে যায় মহতাব শেখের। ফলে বড় সমস্যায় পড়েন তিনি। কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারছিলেন না। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, নিজের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে হয় তাঁকে।মামলার প্রেক্ষিতে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এরপর ট্রাইবুনালে আবেদন জানান মহতাব। সল্টলেকের বিজন ভবনে গঠিত ট্রাইবুনালে শুনানি হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম।
শুনানিতে মহতাব শেখ নিজের পরিচয় প্রমাণে একাধিক সরকারি নথি পেশ করেন। আধার কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, এমনকি তাঁর সন্তানের জন্ম শংসাপত্রেও তাঁর নাম সঠিকভাবে উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আবেদনকারীর পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম ও গোপা বিশ্বাস। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের হয়ে বক্তব্য রাখেন দিব্যা মুরুগেসান।
সমস্ত তথ্য ও নথি খতিয়ে দেখে ট্রাইবুনাল স্পষ্ট নির্দেশ দেয়—মহতাব শেখের নাম অবিলম্বে ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এই নির্দেশের ফলে কেবল তাঁর ব্যক্তিগত লড়াইয়েরই জয় হয়নি, বরং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।এই রায়কে অনেকেই “গেম চেঞ্জার” হিসেবে দেখছেন। কারণ, নির্বাচন ঘিরে যখন উত্তাপ তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় এক প্রার্থীর ফিরে আসা স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ফরাক্কার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস শিবিরে নতুন উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু একটি নাম ফেরানোর নির্দেশ নয়—এটি গণতান্ত্রিক অধিকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে এটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, প্রশাসনিক বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে কোনও যোগ্য নাগরিক বা প্রার্থীকে বঞ্চিত করা যাবে না।এখন নজর আগামী দিনের দিকে। মনোনয়ন জমা দিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন মহতাব শেখ, সেটাই দেখার। তবে আপাতত বলা যায়—শেষ মুহূর্তে এই “কামব্যাক” ফরাক্কার ভোট রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে।