উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বন্যা-ধ্বসের বলি ২৩, মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ-চাকরি, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 5 Months ago
উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা :

লাগাতার প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়ং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার জেলাজুড়ে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের।বন্যায় মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রীর ।পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং একজন করে সদস্যকে স্পেশাল হোম গার্ড পদে চাকরি প্রদানের ঘোষণা ।

উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ত্রাণ শিবির পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেন তিনি। একই সঙ্গে রাজনীতি ভুলে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন উত্তরবঙ্গ থেকে তাঁর সাফ বার্তা, ‘লোকাল এমপি, এমএলএ-রা আছেন---ভুলে যান রাজনীতি। ভুলে যান কে কোন রাজনৈতিক দল করেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করতে হবে।’ তার সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘কেউ কোনও উত্তেজনায় পা দেবেন না। এমন কোনও ঘটনা না ঘটে, যে ঘটনা কাম্য নয়। কারও ওপর যেন কোনও আঘাত না আসে...যা ঘটেছে, আমি চাইনি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হোক।’

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নাগরাকাটা, মিরিক, জোরবঙ্গলো ও কালিম্পং অঞ্চল। বহু এলাকা এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পর্যটক উদ্ধারেও চলছে তৎপরতা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “৫০০ পর্যটককে উদ্ধার করে নিচে আনা হচ্ছে। ২৫০ জনকে শিলিগুড়িতে রাখা হয়েছে। হোটেলগুলিকে বলা হয়েছে, তারা যেন কোনও খরচ না নেয়, প্রয়োজনে সরকার সেই ব্যয় বহন করবে।”

ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুলিশ ও প্রশাসন কমিউনিটি কিচেন চালু করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যসচিবও উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন। তাঁরা হাসিমারা, নাগরাকাটা, মিরিকসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন।মুখ্যমন্ত্রী আরো থাকবেন পরিস্তিতি নিয়ে তিনি রাজ্যের তরফে যতটা সম্ভব তৎপরতা দেখাছেন তিনি, কোন ধরনের সংঘাতে লিপ্ত না হবার আহ্বান জানান

বন্যায় মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।“এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে দার্জিলিং, মিরিক, কালিম্পংয়ে ১৮ জন, নাগরাকাটায় ৫ জন। প্রতিটি পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং একজন করে সদস্যকে স্পেশাল হোম গার্ড পদে চাকরি দেওয়া হবে,” বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মা-মাটি-মানুষের সরকার নিজের সামর্থ্যে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে।” শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষ যখন বিপদে পড়ে, তখন উৎসব নয় মানুষের জীবনই সবচেয়ে বড়।

আপাতত জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে সাফারি-সহ সমস্ত ধরনের পর্যটন সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। পর্যটক এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই দুর্যোগের পরে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে খতিয়ে দেখা হবে রাস্তাঘাট, সেতুগুলির স্বাস্থ্য। সেই সময় পর্যন্ত পর্যটনের উপরে এই স্থগিতাদেশ থাকবে।

পাশাপাশি পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন বহু পর্যটক। তাঁদের ধীরে ধীরে উদ্ধার করা হচ্ছে। দার্জিলিং, মিরিকের মতো পর্যটকবহুল জায়গাগুলিতে প্রশাসনের তরফে হেল্প লাইন নম্বরও দেওয়া হয়েছে। মিরিক এসডিপিও- ৯১৪৭৮৮৯০৫৬,ওসি মিরিক-৯১৪৭৮৮৯০৬৪ ,ডিআইও মিরিক-৯১৪৭৮৯০৫৭৭,ট্রাফিক ওসি-৬২৯৪২৭৪১৯৭,দার্জিলিং পুলিশ কন্ট্রোল রুম- +৯১ ৯১৪৭৮ ৮৯০৭৮