“বঙ্গ থেকে সোনার অসমে”—মমতাকে আমন্ত্রণ হিমন্তের, ভোটের মঞ্চে নতুন রাজনৈতিক বার্তা
দেবকিশোর চক্রবর্তী
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই আবহেই রাজ্যে এসে এক তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। বিজেপির তারকা প্রচারক হিসেবে বঙ্গ সফরে এসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘সোনার অসম’ ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ জানান। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বিভিন্ন জনসভা ও প্রচার মঞ্চ থেকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেন, অসম আজ উন্নয়নের এক নতুন দিশায় এগোচ্ছে। তাঁর কথায়, “অসমে আমরা যেভাবে পরিকাঠামো, শিল্প এবং কর্মসংস্থানের উন্নতি করেছি, তা দেশবাসীর সামনে উদাহরণ।” এই প্রেক্ষিতেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, “আপনি সময় করে অসমে আসুন, দেখুন আমরা কীভাবে ‘সোনার অসম’ গড়ে তুলেছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আমন্ত্রণ নিছক সৌজন্য নয়, বরং এক ধরনের রাজনৈতিক কৌশল। বঙ্গের ভোটে উন্নয়নকে ইস্যু করে বিজেপি যে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে চাইছে, হিমন্তর মন্তব্য তারই প্রতিফলন। বিশেষ করে, তিনি ‘সোনার অসম’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে একদিকে যেমন নিজেদের সরকারের সাফল্য তুলে ধরতে চেয়েছেন, অন্যদিকে তৃণমূল সরকারের কাজের সমালোচনাও করেছেন পরোক্ষে।
উল্লেখ্য, বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ইতিমধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বঙ্গেও তাঁকে ‘তারকা প্রচারক’ হিসেবে সামনে এনে দল স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, উন্নয়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতার দিক থেকে তারা নিজেদের শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস শিবির এই মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্পগুলিই মানুষের কাছে আসল প্রমাণ। তাঁদের দাবি, বিজেপি বহিরাগত মুখ এনে ভোটে প্রভাব ফেলতে চাইছে, কিন্তু তাতে কোনও লাভ হবে না।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, হিমন্তর এই মন্তব্যের মধ্যে রয়েছে দ্বিমুখী বার্তা। একদিকে এটি তৃণমূল নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে উন্নয়নের তুলনামূলক ছবি তুলে ধরার চেষ্টা। বিশেষত, পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে উন্নয়নের প্রতিযোগিতা যে ক্রমশ রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসছে, এই ঘটনায় তা আরও স্পষ্ট।
এখন দেখার বিষয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আমন্ত্রণে কী প্রতিক্রিয়া জানান। যদিও সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি, রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই মন্তব্য আগামী দিনে নির্বাচনী প্রচারে আরও তীব্র বাকযুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে বঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে অসমের ‘উন্নয়ন মডেল’ তুলে ধরে মমতাকে আমন্ত্রণ জানানো—এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।