ভোটের মুখে বাড়ছে এজেন্সি তৎপরতা, মমতার ঘনিষ্ঠ নেতার বাড়িতে আয়কর হানা, ভোটের আগে চাপে তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস
দেবকিশোর চক্রবর্তী
ভোটের আবহে বড়সড় চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ কলকাতায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর স্নেহধন্য নেতা, রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দেবাশিস কুমার-এর বাড়িতে শুক্রবার ভোরে আয়কর দফতরের হানা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।সকাল প্রায় ৫টা নাগাদ আয়কর দফতর-এর আধিকারিকরা দক্ষিণ কলকাতার মনোহরপুকুর রোডে অবস্থিত দেবাশিস কুমারের বাসভবনে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। সেই অভিযান এখনও চলছে বলে জানা গিয়েছে। বাড়ির ভিতরে রয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী নিজেই।
শুধু তাঁর বাড়িই নয়, একই সঙ্গে তল্লাশি চালানো হচ্ছে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়েও। পরে আয়কর দফতরের একটি পৃথক দল তাঁর শাশুড়ির ফ্ল্যাটেও অভিযান শুরু করে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) একাধিকবার তলব করেছিল দেবাশিস কুমারকে। সেই প্রেক্ষাপটেই এই আয়কর হানাকে ঘিরে বাড়ছে জল্পনা। যদিও এখনও পর্যন্ত তল্লাশির নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে মুখ খোলেনি কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা।
অভিযান চলাকালীন এক আইনজীবীর উপস্থিতি ঘিরে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। তিনি তল্লাশির বৈধতা এবং ‘গাইডলাইন’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে গেট থেকেই ফিরিয়ে দেন।
এ দিকে, স্থানীয় এলাকায় কৌতূহল থাকলেও বড় জমায়েত চোখে পড়েনি। বাড়ির সামনে এবং নির্বাচনী কার্যালয়ের আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। ত্রিধারা ক্লাব সংলগ্ন এলাকাতেও একই চিত্র।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মুখে এই ধরনের কেন্দ্রীয় সংস্থার পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধী দলগুলি বিষয়টি নিয়ে সরব হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করতে পারে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই নেতার বাড়িতে আয়কর হানা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এখন নজর তল্লাশি শেষে আয়কর দফতরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকে।