জল, গান আর নিয়তির নির্মম মিল: রাহুল অরুণোদয়ের প্রয়াণে ফিরে দেখা জুবিনের "পিয়ারে পিয়ারে"

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 15 h ago
জল, গান আর নিয়তির নির্মম মিল: রাহুল অরুণোদয়ের প্রয়াণে ফিরে দেখা জুবিনের
জল, গান আর নিয়তির নির্মম মিল: রাহুল অরুণোদয়ের প্রয়াণে ফিরে দেখা জুবিনের "পিয়ারে পিয়ারে"
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

টলিপাড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যু যেন এখনও মেনে নিতে পারছেন না কেউই। দিঘার তালসারির জলে ডুবে ৪৩ বছর বয়সে তাঁর এই অকালপ্রয়াণ শুধু এক অভিনেতার বিদায় নয়, যেন এক অসমাপ্ত জীবনের হঠাৎ ইতি। রবিবার সন্ধে ছটা নাগাদ পাওয়া খবরের ভিত্তিতে জানা যায় এদিন একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন জলের নিচে তলিয়ে যান রাহুল। দলের টেকনিশিয়ানরা তাকে উদ্ধার করলেও হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এরপরে দাবানলের মত হুহু করে ছড়িয়ে পড়ে খবরটি। ময়নাতদন্ত দিঘাতেই সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে। মৃত্যুর কারণ কী, কী ঘটেছিল কিছুই এখনো পরিষ্কার হয়নি।
 
 তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যেই ফিরে আসছে এক অদ্ভুত কাকতালীয় স্মৃতি— তাঁর অভিনয় জীবনের শুরু। Chirodini Tumi Je Amar ছবির মাধ্যমে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন রাহুল। আর সেই ছবিরই এক কালজয়ী গান— ‘পিয়ারে পিয়ারে’, যা গেয়েছিলেন Zubeen Garg।
 
গানটি শুধু জনপ্রিয় হয়নি, বরং এক প্রজন্মের আবেগ হয়ে উঠেছিল। জুবিন গার্গের কণ্ঠে যে কষ্ট, প্রেম আর অপূর্ণতার সুর ধরা পড়েছিল, তা রাহুলের পর্দার উপস্থিতির সঙ্গে মিশে তৈরি করেছিল এক গভীর অনুভূতি।আর আজ, সময় যেন সেই গানকেই নতুন করে ব্যাখ্যা করছে।কারণ, কাকতালীয় হলেও সত্যি— জুবিন গার্গও ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে জলে ডুবে প্রয়াত হন। আর তার ঠিক এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, একই ভাবে জলের মধ্যেই হারিয়ে গেলেন রাহুল অরুণোদয়।
এই অদ্ভুত মিল যেন আরও বেশি নাড়া দেয়।যে গানের মাধ্যমে এক অভিনেতার যাত্রা শুরু, সেই গানের শিল্পী— আর সেই অভিনেতা— দু’জনের জীবনই শেষ হল একই উপাদানে, জল।
 
আজ “পিয়ারে পিয়ারে” গানটি যেন আর শুধু প্রেমের গান নয়—
এ যেন এক অমোঘ বিদায়ের সুর,
যেখানে লুকিয়ে আছে না বলা কষ্ট, অপূর্ণতা আর সময়ের নির্মমতা।
 
রাহুল শুধু অভিনেতা ছিলেন না— তিনি ছিলেন এক চিন্তাশীল মানুষ। সমাজ, রাজনীতি থেকে ব্যক্তিগত অনুভূতি— সবকিছু নিয়েই তাঁর স্পষ্ট মতামত ছিল। লেখালেখির মাধ্যমেও তিনি নিজের ভাবনাকে তুলে ধরতেন। ফলে তাঁর প্রয়াণে শুধু টলিপাড়াই নয়, এক মননশীল কণ্ঠস্বরও হারাল।আজ শোকস্তব্ধ টলিপাড়া।
 
আর কোথাও যেন নীরবে বাজছে সেই সুর—
“পিয়ারে পিয়ারে…”
যেখানে প্রেম আছে, স্মৃতি আছে,
আর আছে—
 
দুই শিল্পীর অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে থাকা এক চিরন্তন বিদায়ের গল্প।