পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফর: ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক ও টেকসই সম্পর্কের প্রচেষ্টা

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফর: ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক ও টেকসই সম্পর্কের প্রচেষ্টা
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফর: ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক ও টেকসই সম্পর্কের প্রচেষ্টা
 
বাংলাদেশ ঃ
 
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগামী ৭ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের রাজধানী দিল্লি সফর করবেন। এই সফর নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সফরের মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে স্থিতিশীল, টেকসই ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া। এছাড়া সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছানো হবে।

ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতি আন্তর্জাতিকভাবে দৃষ্টিগ্রাহ্য হয়ে ওঠে। ঢাকায় এই সফরের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের পর্ব’ থেকে উত্তরণের সংকেত দেওয়া হয়েছিল। এবার খলিলুর রহমানের সফরও সেই প্রেক্ষাপটের ধারাবাহিকতা বহন করছে। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক, স্থিতিশীল এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করার ভিত্তি তৈরি করা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লি সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকের বিষয়বস্তুতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত নিরাপত্তা, গঙ্গা ও তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির যথাযথ বণ্টন, সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং অন্যান্য অংশীদারিত্বমূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফর টেকসই রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্র তৈরি এবং বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিবর্তন, শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া আলোচনা হবে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ভারতের কাছে বোঝানোর সুযোগ এই সফরে থাকবে।

সফরের গুরুত্ব শুধু কূটনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি রাজনৈতিকভাবে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কের দিকনির্দেশনা স্থাপন, এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবস্থান সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক, স্থিতিশীল ও পারস্পরিক আস্থা-ভিত্তিক পর্যায়ে উন্নীত করতে এই সফর মূল ভূমিকা রাখবে।