সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে, ৯২ বছর বয়সে চলে গেলেন তিনি
Story by atv | Posted by Sudip sharma chowdhury • 11 h ago
সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে, ৯২ বছর বয়সে চলে গেলেন তিনি
মুম্বাই ঃ
সুরের জগতে মহা পতন। প্রয়াত আশা ভোঁসলে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ সকলে। গতকাল সন্ধ্যাবেলাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন আশা ভোঁসলে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। আজ দুপুরে এল দুঃসংবাদ। পরিবারের তরফে তাঁর মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামিকাল বিকেল ৪টের সময় শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে আশা ভোঁসলের।ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তিদের মধ্যে শেষ প্রজন্মের একজন, গায়িকা ভোঁসলে রবিবার ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালে প্রয়াত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। ৯২ বছর বয়সী এই শিল্পী প্রায় ৭০ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে সমগ্র দেশ এবং বিশ্বের অসংখ্য ভক্তের হৃদয় জয় করেছিলেন।হৃদ্রোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে শনিবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যা পরবর্তীতে বহু অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার দিকে নিয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা প্রদান
১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সাংলিতে জন্মগ্রহণ করেন ভোঁসলে। তিনি ছিলেন পণ্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকরের তৃতীয় কন্যা। মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে ‘মাঝা বাল’ ছবির জন্য “চালা চালা নব বালা” গান দিয়ে তাঁর সংগীতজীবন শুরু হয়।
হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর প্রথম কোরাস গান ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়, যার মধ্যে ছিল ‘চুনারিয়া’ ছবির “সাওয়ান আয়া” এবং ‘অন্ধোন কি দুনিয়া’-র আরেকটি গান। তাঁর প্রথম একক হিন্দি গান ছিল ১৯৪৯ সালের ‘রাত কি রানী’ ছবির জন্য।
সুরকার ও. পি. নায়ারের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ সংগীত সহযোগিতা শুরু হয় নয়া দৌর (১৯৫৭) ছবির মাধ্যমে। তাঁদের শেষ যৌথ কাজ ছিল ‘প্রাণ যায় পর বচন যায় না’ (১৯৭৪)-এর “চেইন সে হামকো কাভি আপনে জিনে না দিয়া” গানটি, যার জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান, যদিও গানটি ছবিতে দেখানো হয়নি।
পরবর্তীতে সুরকার আর. ডি. বর্মনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও কাজ আরও প্রস্ফুটিত হয়, যাঁকে তিনি পরে বিয়ে করেন। তাঁদের একসঙ্গে কাজের মধ্যে তিসরি মঞ্জিল (১৯৬৬) উল্লেখযোগ্য।
আর. ডি. বর্মন এবং গুলজারের সঙ্গে তাঁর সহযোগিতায় ‘খুশবু’, ‘ইজাজাত’, ‘নামকিন’, ‘খুবসুরত’ এবং ‘দিল পড়োসি হ্যায়’-এর মতো বহু চলচ্চিত্র ও অ-চলচ্চিত্র সঙ্গীত ক্লাসিক সৃষ্টি হয়।
বাঙালি শ্রোতাদের কাছে আশা ভোঁসলে এক আলাদা আবেগের নাম। বাংলা আধুনিক গান এবং চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। সুধীন দাশগুপ্ত থেকে নচিকেতা ঘোষ— তাবড় বাঙালি সুরকারদের পছন্দের তালিকায় তিনি ছিলেন শীর্ষে। ‘মন মেতেছে মন ময়ূরী’ বা ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে’ আজও প্রত্যেক বাঙালির মনের মণিকোঠায় অমলিন হয়ে আছে। আর ডি বর্মনের সঙ্গে জুটি বেঁধে একের পর এক বাংলা আধুনিক গানে ঝড় তোলেন আশা। ‘এনে দে রেশমি চুড়ি’, ‘একটা দেশলাই কাঠি জ্বালও’ আজও দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে আবহ বদলে দেয়। একের পর এক বাংলা ছবিতেও আশার গান মন জয় করে অনুরাগীদের।
সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে উষ্ণ অসমীয়া অভ্যর্থনা গ্রহন
সংগীতে তাঁর এই বিশাল অবদানের জন্য ২০০৮ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘পদ্মবিভূষণ’ প্রদান করে। এর আগে ২০০০ সালে তিনি পান ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কার। এ ছাড়াও গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করা শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
গানের বাইরে আশার অন্যতম প্যাশন হল রান্না। তিনি নিজেই স্বীকার করেন, গান না গাইলে তিনি রাঁধুনি হতেন। এই ভালোবাসা থেকেই তিনি দুবাই ও কুয়েতসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ‘Asha’s’ নামে একটি সফল রেস্তোরাঁ চেইন গড়ে তুলেছেন। সেখানে অনেক সময় তিনি নিজেই রান্নার তদারকি করেন।
নব্বই পেরিয়েও তাঁর কণ্ঠের সতেজতা এবং সংগীতে তাঁর নিবেদন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা। সুরের আকাশে তিনি সেই চিরযৌবনা কণ্ঠস্বর, যা যুগ যুগ ধরে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হবে।