বিহারের ‘বিস্ময় বালক’ শারিম খান: গণিত–বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অলৌকিক প্রতিভার ঝলক

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 8 d ago
বিহারের ঔরহী গ্রামের ‘বিস্ময় বালক’ শারিম খান
বিহারের ঔরহী গ্রামের ‘বিস্ময় বালক’ শারিম খান
 
আর্চলা খান / নয়া দিল্লি

বিহারের ঔরহী গ্রামের এক অলৌকিক প্রতিভাবান শিশু গোটা দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সিআইবি (CIB) চ্যানেলের প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই শিশুটি তার বুদ্ধিমত্তা, বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ও অসাধারণ চিন্তাশক্তির জন্য পরিচিত।
 
গ্রামের মানুষ স্নেহ করে তাকে এখন ‘বিস্ময় বালক’ বলে ডাকে। অনেকে আবার তাকে দেশের পরবর্তী আব্দুল কালাম বলেও মনে করছেন।
 
শারিম খান কর্তৃক গৃহীত পুরস্কার সমূহ
 
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ১২ বছর বয়সেই এই শিশুটি এমন সব গণিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি–সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেয়, যেগুলো শুনে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষও অবাক হয়ে যায়। গ্রামে সীমিত সুযোগ–সুবিধা থাকা সত্ত্বেও সে নিজে নিজেই ইন্টারনেট, সোলার প্যানেল, মোবাইল মেরামত ও কম্পিউটার প্রোগ্রামিং–সহ নানা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছে। পুরনো ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম থেকে সে কীভাবে নতুন যন্ত্র তৈরি করে, সেটাও প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে। এই শিশুটির নাম শারিম খান।
 
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, তার জ্ঞান কোনো বড় স্কুল বা কোচিং সেন্টার থেকে আসেনি; এসেছে নিজের আগ্রহ, অধ্যবসায় এবং জ্ঞানপিপাসা থেকে। ইউটিউব, পুরনো বই এবং ভাঙা–চোরা যন্ত্রপাতির সাহায্যে সে যা করছে, তা অনেক শহরের ছাত্র–ছাত্রীও করতে পারে না।
 
বিহারের ঔরহী গ্রামের মানুষের কাছে সে এখন গ্রামের ‘উদীয়মান তারকা’। একটি ব্যক্তিগত চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গ্রামের এক বৃদ্ধ বলেন, “আমাদের গ্রামের একটি শিশু যে এমন অসাধারণ কাজ করতে পারে, আমরা কখনও ভাবিনি। এখন গ্রামের প্রতিটি অভিভাবকই নিজেদের সন্তানকে পড়াশোনার প্রতি উৎসাহিত করছেন।”
 
শারিম খানের পিতা
 
এদিকে, একটি টিভি চ্যানেল তাদের প্রতিবেদনে এই শিশুটিকে “মুসলিম সমাজের আব্দুল কালাম” বলে উল্লেখ করেছে। এই তুলনা হঠাৎ করে নয়। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও মহান বিজ্ঞানী ড. এ.পি.জে. আব্দুল কালাম যেমন সামান্য পরিস্থিতি থেকে উঠে এসে দেশকে নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন, ঠিক তেমনভাবেই এই শিশুটির মধ্যেও সীমিত সম্পদ নিয়ে দেশকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
 
বর্তমানে সে নিজের মতো করে শেখা ও সৃষ্টির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সঠিক দিকনির্দেশনা, আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সুবিধা পেলে, সে দেশের জন্য এক অমূল্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
 
প্রতিবেদনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে, ভারতের গ্রাম–বাংলা প্রতিভাশূন্য নয়। শুধু তাদের খুঁজে বের করে লালন–পালন করা এবং যথাযথ মঞ্চ দেওয়া প্রয়োজন। এমন শিশুদের সময়মতো সঠিক পথে এগিয়ে দিলে, দেশকে নতুন বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক বা চিন্তাবিদ উপহার দিতে কারও বাধা থাকবে না।
 
শারিম খান তার ভগ্নির সঙ্গে
 
বিহারের এই ‘বিস্ময় বালক’ শুধু তার নিজের গ্রাম বা ধর্মের গর্ব নয়, বরং গোটা দেশের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে। সে যেন ঘন অন্ধকারে ফুটে ওঠা একটি ছোট্ট প্রদীপ। আজ যখন প্রতিভার সন্ধানে আমরা দেশের বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের দিকে তাকাই, তখন এই শিশু মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃত প্রতিভা মাটির সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং শুধু একটি সুযোগ পেলেই তা আকাশ ছুঁতে পারে।
 
উল্লেখ্য, শারিম খান SK Wonder নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলও চালায়। এখন আমাদের সবার দায়িত্ব, এ ধরনের শিশুদের সামনে তুলে ধরা, যাতে পরবর্তী আব্দুল কালাম আবার ভারতভূমিতে জন্ম নিতে পারে।