নয়া দিল্লি
বুধবার হংকংয়ের এক বিশাল হাউজিং কমপ্লেক্সে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যাতে বহু মানুষের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯৪ জন নিহত হয়েছে, এবং বহু মানুষকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘিরে সমগ্র শহরে শোকের আবহ নেমে এসেছে।
বিভাগীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অগ্নিনির্বাপক বাহিনী এখনও কমপ্লেক্সের বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাটে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। সাতটি টাওয়ারের প্রতিটি ইউনিটে প্রবেশের চেষ্টা চলছে যাতে কোনো ব্যক্তি আটকা পড়ে থাকলে দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা করা যায়।
উল্লেখযোগ্য, উত্তর হংকংয়ের টাই প’ জেলার ওয়াং ফুক কোর্টে অবস্থিত আটটি উঁচু আবাসিক ভবন সমন্বিত এই কমপ্লেক্সে প্রায় ২০০০টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও বহুতল আবাসিক এলাকাগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত এই অঞ্চলেই ঘটেছে আগুন লাগার ঘটনা।
উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। জানা গেছে, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হংকং পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন একটি নির্মাণ কোম্পানির পরিচালক ও প্রকৌশল পরামর্শদাতা। যদিও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নাম পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
অগ্নিনির্বাপক বিভাগের উপ-পরিচালক ডেরেক আর্মস্ট্রং চান জানান, “আমাদের উদ্ধার অভিযান প্রায় শেষের পর্যায়ে। অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করছেন।” তবে ঠিক কতজন মানুষ নিখোঁজ বা আটকা পড়ে আছেন, তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যায়নি।
হংকংয়ের প্রশাসনিক প্রধান জন লি বলেছেন, “বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৭৯ জনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা অথবা কতজন এখনও ধ্বংসস্তূপের ভিতরে রয়েছেন, সে সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে কোনও হালনাগাদ তথ্য নেই।”
এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১১ জন দমকল কর্মীসহ মোট ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন এবং ৯৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। রাতের মধ্যেই প্রায় ৯০০ বাসিন্দাকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সংবাদসংস্থা ANI জানিয়েছে, এক নির্মাণ সংস্থার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অবহেলার অভিযোগেই এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ প্রেস্টিজ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির অফিসেও তল্লাশি চালিয়েছে, যাদের দায়িত্বে ছিল ওই টাওয়ার কমপ্লেক্সের সংস্কারকাজ। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে কোম্পানির বহু নথিও জব্দ করা হয়েছে।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে হংকং প্রশাসন। পুরো শহর জুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন, এই বিপর্যয় কি অবহেলার ফল, নাকি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার করুণ পরিণতি।