আইএসএলে হামাগুড়ি, শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবকে নেমে যেতে হলো দ্বিতীয় ডিভিশনে!

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 23 d ago
আইএসএলে হামাগুড়ি,  শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবকে নেমে যেতে হলো দ্বিতীয় ডিভিশনে!
আইএসএলে হামাগুড়ি, শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবকে নেমে যেতে হলো দ্বিতীয় ডিভিশনে!
 
শান্তিপ্রিয় রায়চৌধুরী:

শুরুতেই বিপর্যয়। গতবার আই লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথমবার ইন্ডিয়ান সুপার লিগে(আইএসএল) অংশ নিতে পেরেছিল কলকাতা তিন প্রধানের অন্যতম মহমেডান স্পোর্টিং। কিন্তু শুরুতেই বিপর্যয়।শুধু বিপর্যয় বললে ভুল হবে। শোচনীয় ভাবে বিপর্যয়। পয়েন্ট তালিকায় একেবারে তলানিতে থেকে ২০২৩-২৪ মরসুমের পর অবশেষে আনুষ্ঠানিক ও গাণিতিকভাবে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ থেকে অবনমিত হয়েছে মহমেডান স্পোর্টিং। তারা আই-লিগ বা বর্তমানের ইন্ডিয়ান ফুটবল লিগে নেমে যাচ্ছে। 

শুক্রবার যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুম্বাই সিটি এফসি-এর কাছে ৪-০ গোলে হারের পর, লিগ পর্বে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই মহমেডানের এই অবনমন নিশ্চিত হয়েছে। আর আইএসএল ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো দল অবনমনের শিকার হলো। ১৪ দলের লিগে ১২ ম্যাচ শেষে হাতে একটা ম্যাচ রেখে মাত্র ৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা লিগ টেবিলের একেবারে ১৪ নম্বরে অবস্থান করছে। পুরো মরসুমে মহমেডান কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি।আইএসএলে মহমেডান এসসি ৭ টি গোল করেছে এবং ২৬ টি গোল হজম করেছে।

বলা যেতে পারে কলকাতা তিন প্রধানের অন্যতম অতীতের ভারতীয় ফুটবলের এই দুর্ধর্ষ দলটা এবার আইএসএলে হামাগুড়ি খেল। ১৪ টা দলের মধ্যে একদিনের ঐতিহাসিক দলটা পয়েন্ট তালিকায় একেবারে সর্বনিম্ন স্থানে রয়েছে! কি করুন অবস্থা এই দলটার! 

একটার পর একটা ম্যাচ হেরেছে দলটা। এবারের আইএসএলে একেবারেই 'নখদন্তহীন' একটা দল তারা। তারা খেলতে নামলেই বিপক্ষ দল জেনেই যেত এই ম্যাচ থেকে একটা পয়েন্ট তাদের আসছেই। ময়দানের রেড রোডের ক্লাবটা এখন যেন অতীতের ছায়া মাত্র। 

একটা ঐতিহ্যপূর্ণ ক্লাবের এই অবস্থা কেন? এই প্রশ্নটা বারবার উঠে আসছে।   আসলে আর্থিক দুরবস্থাই মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। 

এই সেদিন শ্রমিক দিবসে (১মে) ক্লাবের ইতিহাসে কেমন বাজে ঘটনাটা ঘটলো দেখুন?এদিন মহমেডানের অনুশীলন মাঠে দেখা গেল, একজন ফুটবলারও নেই।  একা দাঁড়িয়ে রয়েছেন কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু!

জানা গিয়েছিল, বেতন না পাওয়ার ক্ষোভেই ফুটবলাররা অনুশীলনে আসেন নি। কারও তিন মাস, কারও পাঁচ,আবার কারো ছয় মাস পর্যন্ত বেতন বাকি। প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বেতন হয়নি। আর তারই ফল পড়েছিল এই অনুশীলনে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফুটবলারদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। কোচ মেহরাজ নিজেই বলেছেন, "সবার বেতন বকেয়া আছে।  নিজেও জানি না আমি কত মাস বেতন পাইনি।"

এরপর ক্লাবের স্পনসর ও বিনিয়োগ নিয়ে বহু বার চেষ্টা হয়েছে।অনেক নেতা মন্ত্রী চেষ্টা করেছেন কিন্তু কোন স্পন্সর ক্লাবে আসেনি। বর্তমানে এসব নিয়ে একটা অস্থিরতার ছবি দেখা যাচ্ছে ক্লাবে।কর্মকর্তা থেকে সভ্য সমর্থকরা সবাই ক্লাবের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন।  ক্লাবের পরিস্থিতি দিনের পর দিন খারাপ হচ্ছে। 
এরপর শতাব্দী প্রাচীন এই ক্লাবের কাছ থেকে কি আর  আশা করা যেতে পারে।

কোচ মেহেরাজ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, "আমরা ভারতীয় খেলোয়ারদের নিয়েই খেলেছি।তাই আইএসএল এর মত টুর্নামেন্টে বিদেশি খেলোয়ারদের নিয়ে তৈরি দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উঠতে পারেনি।চাপ ও তীব্রতা  মোকাবিলা করতে গিয়ে আমরা পিছিয়ে পড়েছি।  দল প্রথম দিকে না পারলেও শেষের দিকে দল কিছুটা লড়াই করেছে।"

ক্লাব সচিব ইশতিয়াক (রাজু) আহমেদ আইএস এল শুরুর আগে বলেছিলেন,"আমরা আশাকরি খুব শীঘ্রই সব সমস্যার সমাধান করতেপারব।"
কিন্তু কোথায় কি। কিছুই হয়নি। মহমেডান যে তিমিরে  ছিল সেই তিমিরেই রয়েছে। এক শতাব্দীরও বেশি পুরনো এই ক্লাব এখন দাঁড়িয়ে আছে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সামনে, যেখানে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে মাঠের বাইরের লড়াই!