আওয়াজ দ্যা ভয়েস ব্যুরো, অসম
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রীড়া অঙ্গনে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে অসমের খেলোয়াড়রা। ফুটবল, বক্সিং, অ্যাথলেটিক্স থেকে শুরু করে নানা খেলায় প্রতিভার জোরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করছে তরুণ–তরুণীরা। সেই উজ্জ্বল তালিকায় নতুন সংযোজন ডিব্রুগড় জেলার টিংখাঙের কিশোর ফুটবলার অংগদ গগৈ। গ্রাম্য পরিবেশে বড় হওয়া এই কিশোর নিজের মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে জায়গা করে নিয়েছে অনূর্ধ্ব–১৪ অসম ফুটবল দলে।
আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে মধ্যপ্রদেশে শুরু হতে চলেছে ৬৯তম জাতীয় স্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা (National School Games 2025–26)। আর সেই প্রতিযোগিতাতেই অসমের হয়ে ফুটবল বিভাগে মাঠে নামবে অংগদ গগৈ। রাজগড়ের ৩ নং ন–ভকতীয়া গ্রামের বাসিন্দা সুনীল গগৈ এবং জুলি গগৈ–এর পুত্র অংগদ বর্তমানে রাজগড়ের নিউ স্টার সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল-এর অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। খবরটি সামনে আসতেই পুরো এলাকায় যেন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
ডিব্রুগড় জেলার টিংখাঙের কিশোর ফুটবলার অংগদ গগৈ
ফুটবলের সঙ্গে অংগদের যাত্রা শুরু হয়েছিল শৈশবেই। পাড়ার মাঠে বল নিয়ে ছুটোছুটি করা ছোট্ট ছেলে আজ হয়ে উঠেছে দক্ষ স্ট্রাইকার। প্রশিক্ষক প্রহ্লাদ কোঁৱৰের তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা অংগদ স্থানীয় শলগুড়ি–টিপমীয়া ফুটবল ক্লাব-এর হয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মাঠ মাতিয়েছে বহুবার। তার স্পিড, নিয়ন্ত্রণ ও গোলে রূপান্তরের দক্ষতা ইতিমধ্যেই বহু দর্শকের নজর কেড়েছে।
নিজের আদর্শ হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে মানা অংগদের স্বপ্ন একদিন ভারতের জাতীয় ফুটবল দলে খেলা। অনূর্ধ্ব–১৪ দলে নির্বাচিত হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় অংগদ জানিয়েছে, “অসম দলে নির্বাচিত হতে পেরে খুবই খুশি। মধ্যপ্রদেশে ভালভাবে খেলতে চাই। ছোটবেলা থেকে কঠোর অনুশীলন করে যাচ্ছি। জাতীয় দলে খেলা আমার স্বপ্ন, সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছি।”
অংগদ গগৈ
অন্যদিকে আবেগ আড়াল করতে পারেননি খেলোয়াড়ের বাবা সুনীল গগৈ। তিনি বলেন, “ছোট থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ছিল। প্রথমে কারাতে খেলত, পরে ফুটবলেই মন দেয়। শুরুতে চিন্তায় বাধা দিলেও শেষ পর্যন্ত ওর স্বপ্নকে সমর্থন করেছি। সামনে যেন অসম ও দেশের জন্য বড় কিছু করে দেখাতে পারে, সেই প্রত্যাশাতেই আছি।”
টিংখাঙের মানুষদের আশা, অংগদ গগৈ একদিন জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও দেশের পতাকা উড়াবে। এখন পুরো অঞ্চল তার সাফল্যের অপেক্ষায় দিন গুনছে। মধ্যপ্রদেশের মাঠে অংগদের পারফরম্যান্স দেখার অপেক্ষায় শুধু পরিবার নয়, গোটা অসম।