রমজানে আজানের শব্দসীমা নিয়ে উদ্বেগ, মুম্বাইয়ের মুসলিম আইনজীবীদের বিশেষ SOP দাবী

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 2 d ago
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি
 
ওয়াইস সিদ্দিকী / মুম্বাই

মুম্বাইয়ের একদল মুসলিম আইনজীবী, আইন শিক্ষার্থী ও কর্মী মহারাষ্ট্র সরকারকে রমজান মাসে লাউডস্পিকার ব্যবহারের জন্য একটি মানসম্মত কার্যপদ্ধতি (SOP) চূড়ান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। আজানের শব্দমাত্রা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের আপত্তির কারণে এটি দীর্ঘদিনের দাবি। বহুবার প্রশাসন অভিযোগ করেছে যে মসজিদের লাউডস্পিকারের শব্দ আইনবহির্ভূত মাত্রায় পৌঁছেছে। ফলে কখনও কখনও মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার খুলে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
 
এই বিষয়টি নিয়ে বোম্বে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশনও চলছে, যেখানে মসজিদে লাউডস্পিকার ব্যবহারে পুলিশের পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে শুনানি হচ্ছে। এদিকে পবিত্র রমজান মাস ঘনিয়ে আসায় মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে লাউডস্পিকার ব্যবহার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই মুম্বাইয়ের কয়েকজন তরুণ আইনজীবী, কর্মী ও আইন শিক্ষার্থী পুরো শহরের জন্য একটি নির্দিষ্ট এসওপি জারির আবেদন করেছেন।
 

আমরা কথা বলেছি অ্যাডভোকেট ফয়াজ আলম-এর সঙ্গে, যিনি সম্প্রদায় ও প্রশাসনের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে এই প্রচেষ্টায় যুক্ত। তিনি বলেন, রমজান শুরু হতে চলেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে লাউডস্পিকারের অনুমতি পেতে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। এই ভয়ে অনেকে আগেভাগেই লাউডস্পিকার খুলে ফেলছেন, যা রমজানে বড় ধরনের অসুবিধা সৃষ্টি করবে।
 
তিনি বলেন, “রমজান মাসে মসজিদের লাউডস্পিকারের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। সেহরির সময় রোজা শুরুর ঘোষণা থেকে শুরু করে ইফতারের সময় আজানের শব্দ, এসবই মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক। লাউডস্পিকার না থাকলে মানুষ সমস্যায় পড়বে।”
 
অ্যাডভোকেট সালমান আনসারি ‘আওয়াজ–দ্য ভয়েস’-কে বলেন, “যেভাবে রমজানে হোটেল ও খাবারের দোকানগুলোর রাতের কার্যক্রমের জন্য প্রশাসন বিশেষ এসওপি জারি করে, সেভাবেই লাউডস্পিকার ব্যবহারের জন্যও একটি এসওপি হওয়া উচিত। এতে মসজিদগুলো শুধু সেই এসওপি দেখিয়েই স্থানীয় থানাকে অনুমতির বিষয়টি জানাতে পারবে।” তবে এখনো পর্যন্ত রাজ্য সরকার মুসলিম সমাজের এই অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
 
প্রতীকী ছবি
 
তরুণ আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা শিগগিরই একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করবেন। তারা চান রমজানে লাউডস্পিকারকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো বিতর্ক সৃষ্টি না হয় এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ও যেন কোনো অসুবিধার সম্মুখীন না হয়।
 
আইন শিক্ষার্থী ফয়জ আলি খান বলেন, “আমরা চাই না আগের মতো কোনো বিতর্ক আবার তৈরি হোক। রমজানে লাউডস্পিকার অত্যন্ত জরুরি, তাই আমরা রাজ্য সরকারকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করার অনুরোধ করেছি। নির্ধারিত ডেসিবেল সীমার মধ্যেই লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া উচিত, যাতে কেউ বিরক্ত না হন এবং আইনও মানা হয়।”
 
তরুণ আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রধান সচিব, পুলিশ কমিশনার, বিএমসি কমিশনার এবং মহারাষ্ট্র দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিগুলোতে বলা হয়েছে, রমজান মাসে কেবলমাত্র “নির্দিষ্ট ডেসিবেল-লকড ছোট বক্স–টাইপ স্পিকার” ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হোক।
 
প্রতীকী ছবি
 
দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশিকা (Noise Pollution Rules, 2000) অনুযায়ী রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত লাউডস্পিকার ব্যবহার নিষিদ্ধ। বাণিজ্যিক এলাকায় ৬৫ ডেসিবেল এবং আবাসিক এলাকায় ৫৫ ডেসিবেলই সর্বোচ্চ সীমা।
 
বর্তমানে লাউডস্পিকার সংক্রান্ত মামলা মুম্বাই হাইকোর্টে বিচারাধীন। এর মধ্যেই তরুণ আইনজীবীদের দাবি, রমজানের সময়ের জন্য একটি বিশেষ এসওপি জারি করা হোক, যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে, অন্য সম্প্রদায়ের কেউ বিরক্ত না হন এবং কোনো নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি না হয়।