বরেলি
ব্যক্তিগত বাড়ির ভেতরে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করার অভিযোগে বরেলির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রবীন্দ্র কুমার এবং সিনিয়র পুলিশ সুপার অনুরাগ আর্যাকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এক মামলায় তাদের দেওয়া আগের রায়, যেখানে ব্যক্তিগত স্থানে প্রার্থনার জন্য পূর্বানুমতি লাগে না, এই ঘটনাতেও প্রাথমিকভাবে প্রযোজ্য।
১২ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও সিদ্ধার্থ নন্দন সমন্বিত বেঞ্চ “আদালত–অবমাননা আইন 1971" (Contempt Of Courts Act) এর আওতায় এই নোটিশ জারি করে। একই সঙ্গে কোনও রকম জোরপূর্বক পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বাদী তারিক খানের বিরুদ্ধে হওয়া কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেয়। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ মার্চ।
ঘটনাটি ঘটে ১৬ জানুয়ারি। অভিযোগ, মোহাম্মদগঞ্জ গ্রামের একটি ফাঁকা বাড়িতে নামাজ পড়ছিলেন কয়েকজন মুসলিম, যাদের পরে পুলিশ আটক করে ছেড়ে দেয়। বাড়ির মালিক রেশমা খান জানান, তিনি নিজেই নামাজের জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন এবং প্রার্থনা সম্পূর্ণভাবে তাঁর ব্যক্তিগত বাড়ির ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল।
বাদীপক্ষ হাইকোর্টে আবেদন করে আগের এক মামলার রায়ের ভিত্তিতে “মারানাথা ফুল গসপেল মিনিস্ট্রিজ বনাম উত্তর প্রদেশ রাজ্য”, যেখানে আদালত বলেছিল, ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভেতরে প্রার্থনার জন্য পূর্বানুমতি দরকার নেই, যতক্ষণ না তা রাস্তায় বা জনসমক্ষে ছড়িয়ে পড়ে।
আবেদনকারী তারিক খান বলেন, “খ্রিস্টানদের নিয়ে দেওয়া সেই রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত বাড়িতে প্রার্থনা করার অধিকার আছে। আমরাও সংখ্যালঘু, তাই একই নিয়ম আমাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।” তিনি জানান, আদালতের স্থগিতাদেশের কারণেই তাঁরা আবার বাড়িটিতে নামাজ শুরু করেছেন।
হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এসএফএ নকভি বলেন, “আদালতের রায় একেবারে পরিষ্কার। ব্যক্তিগত বাড়িতে নামাজ বা প্রার্থনা করা সাংবিধানিক অধিকার। আর রাজ্য সরকারও আদালতে স্বীকার করেছে, এ বিষয়ে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে একে বেআইনি বলতে পারেন?”
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব, প্রতিবেশীদের নয়। কেউ যদি শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে আপত্তি তোলে, তবে কর্তৃপক্ষের উচিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।”
এদিকে মোহাম্মদগঞ্জে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েকজন হিন্দু বাসিন্দা শুক্রবারের নামাজ শুরু হওয়ায় আপত্তি জানায়। পাঁচটি পরিবার বাড়ির গায়ে “বিক্রয়ের জন্য বাড়ি” (House For Sale) লিখে রাখে। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন বাড়িতে নিয়মিত প্রার্থনা চলছে, এবং ভবিষ্যতে এগুলো মসজিদ বা মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হতে পারে। একটি প্রতিনিধিদল মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হস্তক্ষেপও চেয়েছে।
গ্রামে প্রায় ৬০০ মানুষের বাস, উভয় সম্প্রদায়ই পাশাপাশি বসবাস করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একজন বাসিন্দা কমল কিশোর বলেন, “তাদের আগেও থামানো হয়েছিল, এখন আবার একই বাড়িতে নামাজ শুরু করেছে। আমরা চাই বাড়িটি ভেঙে ফেলা হোক, যাতে ভবিষ্যতে মসজিদ বা মাদ্রাসায় না বদলে যায়।”
এসএসপি অনুরাগ আর্যা জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা কখনও কোনও ধর্মীয় আচারে হস্তক্ষেপ করিনি, যতক্ষণ তা নিয়ম লঙ্ঘন না করে। আমাদের একমাত্র দায়িত্ব হলো নিশ্চিত করা, কোনও বাড়ি যেন গোপনে জনসাধারণের উপাসনালয়ে রূপান্তরিত না হয়।”