সুদীপ শর্মা চৌধুরী,গুয়াহাটি
সমুদ্রের প্রাণীজগতের মধ্যে জেলিফিশ একটি বিস্ময়কর সৃষ্টি। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, জেলিফিশ পৃথিবীর ইতিহাসে কোটি কোটি বছর ধরে টিকে আছে।
প্রাচীন ফসিল রেকর্ড থেকে জানা যায় যে অন্তত ৫০ কোটি বছর আগে থেকেই জেলিফিশ সমুদ্রে বিদ্যমান ছিল। এ কারণে একে পৃথিবীর প্রাচীনতম জীবন্ত প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম ধরা হয়।
জেলিফিশের বিবর্তন ও দীর্ঘস্থায়িত্ব
জেলিফিশের দেহ গঠিত হয়েছে প্রধানত জেলি সদৃশ পদার্থ ও ৯৫ শতাংশ জল দ্বারা। এদের দেহে কোনো অস্থি, মস্তিষ্ক কিংবা হৃদপিণ্ড নেই। তবুও তারা স্নায়ুতন্ত্র ও বিশেষ কোষের সাহায্যে আলো, গন্ধ ও খাদ্য শনাক্ত করতে পারে। বৈজ্ঞানিকেরা মনে করেন, দেহের সরল গঠনই কোটি বছর ধরে তাদের বেঁচে থাকার অন্যতম রহস্য।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আবিষ্কার
গবেষকরা ডিএনএ বিশ্লেষণ ও সমুদ্রের জীবাশ্ম পরীক্ষা করে প্রমাণ করেছেন যে জেলিফিশ ডাইনোসরেরও আগে থেকে বিদ্যমান। এমনকি কিছু প্রজাতি, যেমন Turritopsis dohrnii, "অমর জেলিফিশ" নামে পরিচিত। এর বিশেষ ক্ষমতা হলো, বার্ধক্য প্রক্রিয়ার শেষে আবার কচি অবস্থায় ফিরে আসা। এই অসাধারণ পুনর্জন্ম প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্রান্সডিফারেনশিয়েশন (transdifferentiation)।
বৈজ্ঞানিক বিস্ময়
জেলিফিশের এই দীর্ঘায়ু ও পুনর্জন্ম ক্ষমতা বিজ্ঞানীদের নতুন চিকিৎসা গবেষণার দিগন্ত খুলে দিয়েছে। ক্যান্সার, কোষ পুনর্গঠন এবং দীর্ঘায়ু সম্পর্কিত গবেষণায় জেলিফিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জেলিফিশ শুধু একটি প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণী নয়, বরং এটি পৃথিবীতে জীবনের স্থায়িত্ব, অভিযোজন ও রহস্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কোটি কোটি বছর ধরে এদের অস্তিত্ব প্রমাণ করে, সরলতা অনেক সময় জটিলতার চেয়ে অধিক কার্যকর।