ইজরায়েল–গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে রাষ্ট্রসংঘ কমিটির নেতৃত্বে ভারতীয় বিচারপতি এস মুরলীধর

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 6 h ago
ওড়িশা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এস মুরলীধর
ওড়িশা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এস মুরলীধর
 
আওয়াজ দ্যা ভয়েস ব্যুরো 

ইজরায়েল–গাজা সংঘর্ষে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে রাষ্ট্রসংঘে তোলপাড়। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরু করতে অবশেষে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করল রাষ্ট্রসংঘ। এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটির নেতৃত্বে নির্বাচিত হলেন ভারতের প্রখ্যাত বিচারপতি এস মুরলীধর, যিনি ওড়িশা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং একাধিক সাহসী রায়ের জন্য বিচার অঙ্গনে সুপরিচিত।
 
ইজরায়েল ও ‘অধিকৃত প্যালেস্তিনীয় অঞ্চল’-এ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ গত দুই বছরে ক্রমশ জোরালো হয়েছে। সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, পণবন্দি করা থেকে শুরু করে যুদ্ধাপরাধেরও অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই রাষ্ট্রসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন তিনজন পর্যবেক্ষক নির্বাচন করে, যার দায়িত্ব হবে সংঘর্ষস্থলে মানবাধিকারের প্রকৃত চিত্র অনুসন্ধান করা। এই তিন সদস্যের অন্যতম এবং কমিটির শীর্ষে রয়েছেন বিচারপতি মুরলীধর, ভারতের জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের মুহূর্ত।
 
২০২৩ সালে অবসরগ্রহণ করেন বিচারপতি মুরলীধর। বর্তমানে তাঁর বয়স ৬৪ বছর। বস্তুনিষ্ঠ ও নীতিনিষ্ঠ রায়ের জন্য তিনি দীর্ঘ বিচারিক জীবনে বিশেষ সম্মান অর্জন করেছেন। তাঁর আগে এই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন ব্রাজিলের আইন বিশেষজ্ঞ পাওলো সার্জিও পিনহেইরো। ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তদন্ত নজরদারির উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রসংঘ এই কমিশন গঠন করে।
 
যুদ্ধবিরতির মাঝেও গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি এখনো স্পর্শকাতর। ২০২৩ সালের অক্টোবরে তেল আভিভে প্যালেস্তাইনের জঙ্গিগোষ্ঠীর আকস্মিক হামলার পর বহু মানুষ পণবন্দি হয় এবং তার পর থেকে ইজরায়েলি সেনা ও হামাসের সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে। দুই বছরের রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির পর আপাতত মার্কিন হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল চাপ তৈরি করেছে।
 
এখন গোটা বিশ্বের চোখ বিচারপতি মুরলীধরদের তদন্ত রিপোর্টের দিকে। ইজরায়েল–গাজা সংঘর্ষে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রকৃত চিত্র কী, তার নিরপেক্ষ মূল্যায়নই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।