নতুন দিল্লি
মানব মস্তিষ্ক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেকে নতুন চিন্তা ও জ্ঞানীয় ক্ষমতার উপযোগী করে তুলতে গিয়ে মোট পাঁচটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের যুগ অতিক্রম করে, এমনটাই জানিয়েছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা। গবেষণা অনুযায়ী, ৯, ৩২, ৬৬ এবং ৮৩ বছর বয়সে মস্তিষ্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে, যা জীবনের প্রতিটি ধাপে ভিন্ন ভিন্ন ধরণের চিন্তা ও শেখার সক্ষমতা গঠনে ভূমিকা রাখে।
গবেষণাটি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ–এর নেতৃত্বাধীন গবেষকদের দ্বারা সম্পন্ন করা হয়েছে। তাঁদের ব্যাখ্যায়, জন্মের পর থেকে গঠিত মস্তিষ্কের নেটওয়ার্কগুলো প্রায় ৯ বছর বয়স পর্যন্ত বিকাশ লাভ করে, আর ঠিক এই বয়সেই শুরু হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর, শৈশব থেকে কিশোর বয়সের দিকে প্রবেশ। এই দ্বিতীয় পর্যায়টি প্রায় ৩২ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
গবেষকরা বলেন, ৩২ বছর বয়স মানব মস্তিষ্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী পরিবর্তন বিন্দু, কারণ ঠিক এই সময়ে মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংযোগ বা নিউরাল ওয়্যারিং প্রবেশ করে “প্রাপ্তবয়স্ক মোডে”, যা সবচেয়ে দীর্ঘ পর্যায়, প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়। এই সময়ে মস্তিষ্কের স্থাপত্য বা নেটওয়ার্ক কাঠামো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে, যা ব্যক্তির চিন্তা, বিচারশক্তি ও সামাজিক আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে।
পরবর্তী দুটি পর্যায়, ৬৬ ও ৮৩ বছর বয়সে, মূলত বার্ধক্যজনিত মানসিক অবক্ষয়, স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা এবং চিন্তাশক্তির ধীরগতির সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষকদের মতে, এই পরিবর্তনগুলো স্বাভাবিক এবং বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে মস্তিষ্কের গঠনগত রূপান্তরকেই নির্দেশ করে।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে শিক্ষা পদ্ধতি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং ব্রেন ডিসঅর্ডার নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মস্তিষ্কের প্রয়োজন এবং সামর্থ্য এখন আরও স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব।