আয়ুর্বেদের ‘সুপার হার্ব’ অশ্বগন্ধা, মাটির গন্ধে লুকিয়ে ‘প্রাকৃতিক শক্তি’

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 1 d ago
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি
 
গুয়াহাটি 

প্রাচীন ভারতের আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় যার ব্যবহার হাজার বছরের, সেই অশ্বগন্ধা এখন আধুনিক স্বাস্থ্যচর্চার অন্যতম আলোচিত নাম। মানসিক চাপ, অনিদ্রা, দুর্বলতা কিংবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর মতো নানা ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় ভেষজ হিসেবে অশ্বগন্ধা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। একসময় গ্রামবাংলার ভেষজ চিকিৎসা কিংবা আয়ুর্বেদের বইয়েই সীমাবদ্ধ থাকা এই উদ্ভিদ এখন আন্তর্জাতিক বাজারে “ইন্ডিয়ান জিনসেং” নামেও পরিচিত।
 
অশ্বগন্ধার বৈজ্ঞানিক নাম Withania somnifera। এটি মূলত একটি ছোট ঝোপজাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ, যা শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ায় ভালো জন্মায়। উদ্ভিদের শিকড়ই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়, যদিও এর পাতা ও ফলও বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে। আয়ুর্বেদে অশ্বগন্ধাকে “রসায়ন” শ্রেণির ভেষজ বলা হয়, যার অর্থ শরীরকে পুনরুজ্জীবিত ও শক্তিশালী করতে সহায়ক উপাদান।
 
ভারতে প্রধানত মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং হরিয়ানায় অশ্বগন্ধার চাষ হয়। এর মধ্যে মধ্যপ্রদেশকে অশ্বগন্ধা উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। শুষ্ক মাটি এবং কম পানিতেও এই গাছ বেড়ে উঠতে পারে বলে কৃষকদের কাছে এটি লাভজনক ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ায় বহু কৃষক ঐতিহ্যবাহী ফসলের পাশাপাশি অশ্বগন্ধা চাষেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, অশ্বগন্ধায় থাকা “উইথানোলাইডস” নামক প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সহায়তা করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘুমের মান উন্নত করা, শরীরের ক্লান্তি দূর করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এর সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে। অনেক ক্রীড়াবিদ ও ফিটনেস সচেতন মানুষও এখন শক্তি ও সহনশীলতা বাড়াতে অশ্বগন্ধা ব্যবহার করছেন।
 
আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে অশ্বগন্ধা গ্রহণ শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। বাজারে বর্তমানে অশ্বগন্ধা গুঁড়ো, ক্যাপসুল, সিরাপ, চা এবং স্বাস্থ্যপানীয় হিসেবে সহজলভ্য। শুধু ভারত নয়, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারেও এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
 
তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যেকোনো ভেষজ উপাদানই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত। অতিরিক্ত সেবন বা ভুলভাবে ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিস বা থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।
 
প্রাচীন আয়ুর্বেদের ঐতিহ্য আর আধুনিক গবেষণার সমন্বয়ে অশ্বগন্ধা এখন শুধু একটি ভেষজ নয়, বরং সুস্থ জীবনযাপনের নতুন প্রতীক হয়ে উঠছে। প্রকৃতির এই ছোট্ট গাছটিই আজ বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের আস্থার নাম।