ধর্মের ঊর্ধ্বে মানবতা: সুফিবাদ নিয়ে সংগীতসম্রাট এ আর রহমানের গভীর অনুভব

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 7 d ago
সংগীতসম্রাট এ আর রহমান
সংগীতসম্রাট এ আর রহমান
 
আওয়াজ দ্যা ভয়েস ব্যুরো

অস্কারজয়ী সংগীত সম্রাট এ আর রহমান সবসময়ই নিজের আধ্যাত্মিক যাত্রা এবং সুফিবাদকে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে খোলাখুলি কথা বলে এসেছেন। সাম্প্রতিক এক আলোচনায় তিনি ধর্ম সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি, সংগীতের ভূমিকা এবং কীভাবে সুফিবাদ তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন।
 
বিশ্বাসের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে এ আর রহমান জানান যে, তিনি বহু ধর্মের শিক্ষা অন্বেষণ করে আসছেন। নিখিল কামাথের একটি পডকাস্টে তিনি বলেন, “আমি সব ধর্মের অনুসারী, এবং ইসলাম, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্ম সম্পর্কে অধ্যয়ন করেছি। ধর্মের নামে কাউকে হত্যা করা বা ক্ষতি করা আমি বড় সমস্যা বলে মনে করি।”
 
একটি সংগীত অনুষ্ঠানে গীত পরিবেশন করে থাকার মুহূর্তে সংগীত সম্রাট এ আর রহমান
 
রহমান আরও বলেন, “আমি যখন মঞ্চে পরিবেশন করি, তখন প্রায়ই মনে হয় যেন একটি পবিত্র স্থানে প্রবেশ করেছি, যেখানে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মানুষ একত্রিত হয়। দর্শকদের আনন্দ দেওয়া আমার ভালো লাগে, এবং মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমার মনে হয় যেন আমি একটি মন্দিরে, যেখানে আমরা সবাই ঐক্যের ফল উপভোগ করছি। বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন ভাষার মানুষ সেখানে একত্রিত হয়।”
 
কেন এ আর রহমান সুফিবাদকে গ্রহণ করলেন?
 
সুফিবাদের অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রহমান বলেন, সুফিবাদ মূলত অহংকার এবং মানুষের নেতিবাচক প্রবণতা ত্যাগ করার প্রক্রিয়া। তাঁর কথায়, “সুফিবাদ হলো মৃত্যুর আগে মৃত্যু। এখানে এমন কিছু পর্দা রয়েছে যা আপনাকে আত্মপর্যালোচনা করতে বাধ্য করে, এবং সেই পর্দাগুলো সরাতে গেলে আপনাকে নিজের ভেতরের 'আমি'–কে ভেঙে ফেলতে হয়। কামনা, লোভ, ঈর্ষা, বিচার–বিবেচনার প্রবণতা, সবকিছু শেষ করে মনকে শুদ্ধ করতে হয়। এরপর একসময় আপনি নিজেই অনুভব করবেন যে আপনার অহংকার বিলুপ্ত হয়েছে, এবং আপনি ঈশ্বরের মতো নির্মল হয়ে উঠেছেন।”
 
সংগীত সম্রাট এ আর রহমান 
 
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক না কেন, বিশ্বাসের আন্তরিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, “আমি ধর্মীয় সামঞ্জস্য ভালোবাসি। আমরা বিভিন্ন ধর্ম পালন করি বটে, কিন্তু মূল্যায়ন করা হয় বিশ্বাসের আন্তরিকতাকে, যা আমাদের ভালো কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং মানবজাতিকে উপকৃত করে। আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধি এলে বস্তুগত সমৃদ্ধিও নিজে থেকেই আসে।”
 
সুফিবাদ নিয়ে তাঁর আগের ভাবনা
 
সুফিবাদ তাঁর আধ্যাত্মিক যাত্রাকে কীভাবে গড়ে তুলেছে, তা নিয়ে আগেও আলোচনা করেছিলেন রহমান। ‘এ আর রহমান: দ্যা স্পিরিট অব মিউজিক’ বইতে তিনি লিখেছিলেন যে, এই দর্শন তাঁর এবং তাঁর মায়ের জীবনে গভীর অনুরণন তৈরি করেছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, সুফিবাদ গ্রহণ করা ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত, কোনো চাপ বা প্রভাবের কারণে নেওয়া নয়।
 
সংগীত সম্রাট এ আর রহমান
 
তিনি ১৯৮৭ সালের একটি রূপান্তরমূলক সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন, একক আধ্যাত্মিক দিকের সন্ধান তখন তাঁর মধ্যে তীব্র হয়েছিল। রহমানের মতে, সুফী পথ অনুসরণ তাঁদের মা–ছেলেকে উন্নত করেছে, এবং সংগীতশিল্পী হিসেবে তাঁদের পরিচিতি সমাজে এই আধ্যাত্মিক পথ অনুসরণের একটি স্বাধীনতা তৈরি করে দিয়েছে।