২৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পরিবেশ সুরক্ষা হবে মূল বার্তা

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 12 d ago
 শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা
শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ

পরিবেশ আদালতের আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র পাওয়ার পর এ বছরও অনুষ্ঠিত হতে চলেছে শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা। আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে পূর্বপল্লীর মাঠে ছয় দিন ধরে চলবে এই উৎসব। ইউনেসকোর ‘বিশ্বঐতিহ্য’ স্বীকৃতি পাওয়ার পর এটি শান্তিনিকেতনে আয়োজিত দ্বিতীয় পৌষমেলা। আয়োজকদের দাবি, এ বছরের মেলা আরও উজ্জ্বল করে তুলবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মনিরপেক্ষতা ও উদার মানবিকতার চিরায়ত ভাবধারা।
 
বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতীগ ঘোষ জানান, পরিবেশ আদালতের নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে মেলার সমস্ত আয়োজন করা হবে। অতীতের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে এ বছর প্লট বরাদ্দে বিশেষ নজরদারি থাকবে। নির্দিষ্ট প্লট বেছে নিলে দ্বিগুণ ফি ধার্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাঁর কথায়, “কোনওভাবেই দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।”
 
শান্তিনিকেতনের পৌষমেলায় হাতে গড়া বাদ্যযন্ত্রের নিদর্শন
 
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে আয়োজিত প্রস্তুতি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ, কর্মসচিব, বিভিন্ন আধিকারিক এবং শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার। বৈঠকে জানানো হয়, জাতীয় পরিবেশ আদালতের ছাড়পত্র ছাড়া মেলা আয়োজন করা হবে না। সেই নির্দেশ মেনেই চলছে যাবতীয় প্রস্তুতি।
 
শান্তিনিকেতনের  পৌষমেলায় সাংস্কৃতিক নৃত্য পরিবেশনের একটি দল
 
পৌষমেলার সূত্রপাত ১৮৪৩ সালের ৭ পৌষে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্রহ্মধর্মে দীক্ষালাভকে কেন্দ্র করে। ১৮৮৮ সালের ট্রাস্ট ডিডে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এই মেলা হবে মানবধর্ম, উদারতা ও সর্বধর্মের মিলনক্ষেত্র; যেখানে থাকবে না কু-উল্লাস বা কোনও ধর্মীয় বিভাজন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠার পর এই মানবধর্মের দর্শন আরও মূর্ত হয়ে ওঠে। ১৮৯৪ সালে আনুষ্ঠানিক সূচনার পর থেকেই পৌষমেলা হয়ে ওঠে সংস্কৃতি, কারুশিল্প, সংগীত ও শিল্পের সেতুবন্ধনে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলা।
 
পৌষমেলার রাত্রির দৃশ্য
 
যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর মতো কঠিন সময়ে একাধিকবার মেলা বন্ধ থাকলেও এর মূল চেতনা কখনও নিভে যায়নি। ২০২১ থেকে ২০২৩, এই তিন বছরে প্রশাসনিক জটিলতায় মেলা বন্ধ থাকলেও স্থানীয় মানুষ ও প্রশাসনের সহায়তায় বোলপুরে বিকল্প মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালে আবারও মূল আয়োজনে ফিরে আসে বিশ্বভারতী।
 
সংস্কৃতিক অভিনয় পরিবেশনার একটি দল
 
এ বারও পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মেনে থাকবে না আতশবাজি। দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে দেশজ শিল্প, কারুশিল্প, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিভিন্ন রাজ্যের শিল্পী-কারিগরদের অংশগ্রহণ মেলাকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলবে বলে আশা আয়োজনকারীদের।
 
পৌষমেলায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশনার একটি দল
 
২৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই ছয় দিনের উৎসব আবারও ফিরিয়ে আনবে শান্তিনিকেতনের বহুল পরিচিত সাংস্কৃতিক আবহ, যেখানে নেই কোনও সংকীর্ণতার দেয়াল; আছে শুধু ইতিহাস, শিল্প, সংস্কৃতি এবং সর্বোপরি মানুষের মিলনমেলা।